চলচ্চিত্র

মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি: অদ্ভুতুড়ে নস্টালজিয়া ও একটি কাকস্য পরিবেদনা

প্রিয়ক মিত্র

 ‘গজাননের কৌটো’-শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের অদ্ভুতুড়ে সিরিজের একটি ম্যাগনাম উপন্যাস। উপন্যাসের শুরুতে দেখা যায় কাটা হাত পা মুন্ডু জোড়া লাগানোর কারবার চলছে পুরোদমে। সেখানে কারিগর ভুল করে কারুর মুন্ডু বসাচ্ছেন অন্যের ধড়ে, কারুর আপাদমস্তক ঘুরে যাচ্ছে ৩৬০ ডিগ্রি, কারুর বামহাত ডানহাত এপাশওপাশ। বিতিকিচ্ছিরি ক্যাডাভারাস অবস্থা যাকে বলে।
অবস্থাটা খুব অপরিচিত লাগবে না আসলে, বিগত কয়েকবছরের বাংলা সিনেমার বাজারের দিকে তাকালে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলেই বুক দুরুদুরু করে। কারণ বিগত পাঁচ ছ বছর ধরে একধরনের ব্যাগাডুলি খেলা শুরু হয়েছে বাংলা চলচ্চিত্তির নিয়ে। তাতেই সব চালচিত্তির চৌপাট। একদল পরিচালক-প্রযোজক শীর্ষেন্দুর গল্পের ওই কারিগরের মতন জোড়াতাপ্পির খেলায় নেমেছেন। তারা হাংরি আন্দোলনের ধড় জুড়েছেন নকশাল আন্দোলনের মাথায়, ঋত্বিক ঘটকের বাঁহাত কেটে জোড়া লাগিয়েছেন দেবদাসের কাঁধে, বিভূতিভূষণের ধড়ে জুড়েছেন অ্যানাকোন্ডার মাথা,  ইন্ডিয়ানা জোনসের পরচুলাতে রেশমি রং করে তা কাকাবাবুকে পড়িয়ে তাকে এভারেস্টে পাঠিয়েছেন, আর হিপিমার্কা ভাওয়াল সন্ন্যাসীকে টেনে নামিয়ে এনেছেন হিমালয় থেকে। আপনি যদি বিগত এক দশকের এবং আসন্ন বাংলা সিনেমার বিষয়ের দিকে তাকান তাহলে আপনার আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবে; বিগ বাজেট চাঁদের পাহাড়, তার আরও বিগ বাজেট সিক্যুয়েল, ব্যোমকেশ, শঙ্কু এসব কালজয়ী সাহিত্য তো আছেই। এছাড়াও দেশভাগ ও বেশ্যাবাড়িতে শর্টসার্কিট, শেক্সপীয়রীয় ট্র্যাজেডির খিদিরপুর ভার্সন-যেখানে জাহাজ ও সাবমেরিনে চড়ে প্রভূত গুলিগোলা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে সব চরিত্রই অক্কা পায় ও তার মাঝে বাংলা সিনেমার রবীন্দ্রনাথ বাংলা কবিতার উত্তমকুমারকে গলায় চেন বেঁধে মারে; আমেন, গুমনামি বাবা (রাম নারায়ণ রামের নেতাজী ফিরে আসার অমলিন ফ্যান্টাসির প্রভাব পড়ে থাকতে পারে) মায় ভাওয়াল সংক্রান্ত অ্যাকাডেমিক বাওয়াল-খোদ পার্থ চাটুজ্জ্যের বই থেকে সিনেমার পর্দায় -সবই ঘটেছে। শোনা যাচ্ছে ‘চৌরঙ্গী’-র মতন কাল্ট সিনেমার নতুন ভার্সন আসছে, বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগের গল্প শেষ, এখন সবসময়ই ধনতেরাস। এসব ছবিতে সবাই হিরো, ভিলেন ফেসবুকের নিন্দুকরা। বাংলা ওয়েব সিরিজ নামক দুর্গম এলাকাটিতে ঢুকলাম না, ওতে বিপদ বাড়বে।
মোদ্দা কথা, ছোটবেলা থেকে পড়ে আসা অতুল সাহিত্যকীর্তিগুলোর যা হাল হয়েছে বাংলা বাজারের এই নিউ ওয়েভের ঢেউয়ের ঝাপটায়, তা ভাবলেও দিল দর্দ-এ ডিস্কো হয়ে যায়। চাঁদের পাহাড়ের বুনিপ যে আসলে খারাপ গ্রাফিক্সের সিন্ধুঘোটক, যে কিনা সমুদ্র ছেড়ে কিলিমাঞ্জারোতে চড়ে বেড়াতে বেড়াতে খিটখিটে বুলডগে পরিণত হয়েছে-এই কঠিন সত্য চাক্ষুষ না করলেই বাঙালি আমপাঠকের ভালো হত। তো সেই বদমেজাজী সিন্ধুঘোটককে ক্যাপবন্দুক দিয়ে মেরে শঙ্করের শান্তি হয়নি, তিনি আমাজন ছুটে গিয়ে অ্যানাকোন্ডার ঘাড় মটকেছেন। তারপর এলডোরাডো খুঁজতে গেলেন যখন, তখন অ্যানিমেটেড ব্ল্যাক প্যান্থারের গুষ্টি তার পিছু নিল, অথচ কে জানত সেই নাকতলা উদয়নের থিমপুজোর প্যান্ডেলমার্কা এলডোরাডোতে মিথিকাল যুগের মডেলরা তীরধনুক হাতে ক্যাটওয়াক করতে আসেন বিকেলবেলা, এবং তাদের দেখেই ব্ল্যাক প্যান্থারের লেজ শুকিয়ে যায়। তার মধ্যে কাকাবাবু মিশরের পিরামিডে ঢুকে মামি সেজে বসে থাকেন, আর আরব বসন্তের পথিকৃৎকে সুভাষচন্দ্রের নাম করে হুমকি দেন,  ইয়েতিকে টুকি বলে চলে আসেন। এরপর শঙ্কু যাচ্ছেন আমাজনে, সেখানে কী ঘটতে চলেছে তা কেউ জানে না। ব্যোমকেশের কেশটুকুই অবশিষ্ট, ও নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো।
সম্প্রতি ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’ নিয়ে মার্কেটে সিনেমা নেমেছে। কয়েকবছর আগেই শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের কাল্ট উপন্যাস ‘গোঁসাইবাগানের ভূত’ নিয়ে একটি কেলেঙ্কারি মার্কেটে নেমেছিল। ‘পাতালঘর’ নিয়ে বছর পনেরো আগে একটি অনেকদিন মনে রাখার মতন বাংলা ছবি হয়েছে। ‘হীরের আংটি’ নিঃসন্দেহে যত্নে নির্মিত, কিন্তু শীর্ষেন্দুর গল্পের চরিত্ররা এত বেশি নাগরিক হলে খানিক অস্বস্তি হয়। ‘আজব গাঁয়ের আজব কথা’ আরেকটি ব্যর্থ প্রয়াস। এবারের পুজোয় ‘রক্তের দাগ’-এর মতন উপন্যাস, যা বাংলা গোয়েন্দাসাহিত্যে বিরল,  ‘প্রিন্সলি ইমপস্টার’-এর মতন রীতিমতন সিরিয়াস ঐতিহাসিক বই-এসবের শ্রাদ্ধ হয়েছে রুপোলি পর্দায়। এসব বড়সড় কেলেঙ্কারির মাঝে খানিক কম আলোচনা হয়েছে ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’ নিয়ে।
পূজাবার্ষিকী-তে শীর্ষেন্দু নিয়মমাফিক একটি করে উপন্যাস লেখেন প্রতিবছর। এখনও। বহুদিন যাবৎ অদ্ভুতুড়ে তার ধার হারাচ্ছে। ‘রাঘববাবুর বাড়ি’, ‘সাধুবাবার লাঠি’ বড়জোর দেড় দশক পুরনো। তারও আগে ‘পটাশগড়ের জঙ্গলে’, ‘নবীগঞ্জের দৈত্য’, ‘নবাবগঞ্জের আগন্তুক’, ‘ঝিকরগাছার ঝঞ্ঝাট’, ‘পাগলা সাহেবের কবর’ -পাঠককে মজিয়ে রেখেছে শীর্ষেন্দুর কলম। এখন পুজোসংখ্যার চাপে সাহিত্য মরেছে, বর্ষাকালে প্রকাশিত হওয়া পুজোস‌ংখ্যায় আর সেই চমক থাকে না। কিন্তু বাংলা সিনেমার চাকচিক্যে কোনো কমতি নেই, তাই পুজো প্যাকেজে অন্যান্য ব্লকবাস্টারের সঙ্গে ঠাঁই পেয়েছে ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’ নিয়ে হওয়া সিনেমাও।
শুরুতেই দেখা যায় সিনেমার মনোজ শীর্ষেন্দুবাবুকে প্রশ্ন করছেন রূপকথা নিয়ে, শীর্ষেন্দুবাবু সাক্ষাৎকারের ভঙ্গিতে উত্তর দিচ্ছেন‌। তারপর টাইটেল কার্ড, যেখানে ইলাস্ট্রেশন দৃশ্য নির্মাণ করছে। নিঃসন্দেহে ভালো প্রয়াস। কিন্তু তারপরেই শুরু হল খেলা। বোঝা গেল কিছু অভিনেতার ভালো অভিনয়, দুর্ধর্ষ গল্প ও অদ্ভুতুড়ের নস্টালজিয়া-এই এ ছবির প্রাণভোমরা। চিত্রনাট্যের বিষয়ে পরিচালক বোধহয় ভরসা করছিলেন শীর্ষেন্দুর ভূতেদের ওপর, তাই নিজে আর পরিশ্রম করেন নি।
ব্রাত্য বসুর অভিনয় ক্ষেত্রবিশেষে চমৎকার। এছাড়াও কয়েকজন ভালো অভিনয় করে গেছেন গোটা সিনেমাজুড়ে। যেমন অনির্বাণ ভট্টাচার্য, পেশায় সাংবাদিক হয়েও অভিনয়টা মন্দ করেন নি এই সিনেমায়। অম্বরীশ ভট্টাচার্য, সুমিত সমাদ্দার বেশ। রজতাভ দত্ত তার মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। কিন্তু সমস্যা অন্যত্র, এই অভিনয়ের ওপর নির্ভর করে বৈতরণী পার হয় না পরিচালক তা ভাবেননি। মহামান্য অভিনেতারা সামান্য কমিক টাইমিং-এ ধ্যাড়াচ্ছেন, ভাঁড়ামো করছেন। এক বয়জ্যেষ্ঠ নাট্যাভিনেত্রী, যিনি বাংলা ছবির শুটিং শুরুর আগে কলাকুশলীদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করেন, একটি দৃশ্যে তার একঘেয়ে অভিনয়ের ঠেলায় অতিষ্ঠ হয়ে একটি অ্যানিমেটেড দাঁড়কাক হিচকক স্টাইলে ত্রাস সৃষ্টি করতে চাইছিল , তাতে ব্যর্থ হয়ে শেষমেষ কটা ডালের বড়ি নষ্ট করেই সে ক্ষান্ত হল। আকাশ থেকে তখন ব্যারিটোনে শোনা গিয়েছিল, ‘ক্রো ফিল্ম’, তা দর্শকরা শুনতে পাননি। সে যাকগে, দাঁড়কাকটি যে ক্যামিও করেছে, তাতে কৃতজ্ঞতায় গদগদ হয়ে প্রযোজকরা তাকে ‘ডেঞ্জার’ লেখা বিদ্যুৎবাক্সের গায়ে সাঁটা পোস্টারে জায়গা করে দিয়েছেন।
এমন গল্প কীভাবে বলতে হয় সিনেমা মাধ্যমে, তার জন্য কিঞ্চিৎ মানসিক পরিশ্রম প্রার্থনীয় ছিল। তার বদলে ‘লাঞ্চ’-এর সঙ্গে ‘লাঞ্ছনা’-র দুর্বল পান দিয়ে দর্শককে খুশি করতে চেয়েছেন পরিচালক। আর দর্শকও দিব্যি তা গিলেছেন। শেষে যখন ভজবাবু ডাকাত হয়ে যাবেন, তখন তার গলায় যেসব গান থাকবে, উপন্যাসের জন্য সেসব লিখেছিলেন নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। সিনেমার জন্য সেসব গান বোধহয় এসপারেন্তো জাতীয় ভাষায় লেখা হয়েছে, তার মর্মোদ্ধার করাই যেজন্য দু্ষ্কর হয়ে যায়। সঙ্গীত পরিচালক নিজে ডাকাত সর্দারের ভূমিকায় অভিনয় করতে গিয়ে গান অভিনয় সবই গুলিয়েছেন বোধহয়। তার সংলাপগুলো কান পেতে শুনতে হয়, ডাকাত সর্দারের ভোকাল কর্ড ভাঙা এমন কোনো ইঙ্গিত গল্পে তো ছিল না, সেসব পরিচালকের নিজস্ব আবিষ্কার কি না তা ভগাই জানে।
রাজা রাণী দুই চরিত্রের জন্য নির্বাচিত লেজেন্ডারি অভিনেতাই অতিঅভিনয়ে স্কুলের নাটককেও টেক্কা দিয়েছেন। কেন যে রাজার লুচি খাওয়ার দুঃখ দূর করতে বাঈজিনাচের আয়োজন করতে হয় তা বোঝা গেল না। এখন কোলেস্টেরল বা ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের জন্য উপযোগী তেলের বন্দোবস্ত হয়েছে, সেই তেলে লুচি ভাজলে আর রোগবিরোগের সম্ভাবনা থাকে না। ওই জাতীয় তেলের বিজ্ঞাপন রাণী যদি দেখতেন তাহলে  সিনেমায় এত নাচাগানার প্রয়োজন হতনা আর।
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের এই কাহিনীগুলির মূল আকর্ষণ ক্লাইম্যাক্সে। এমন এক ভজকট সেখানে তৈরি হয় যা রীতিমত জমজমাট। এই সিনেমায় তা তো হয়ই না। উপরন্তু মনোজের বৈজ্ঞানিক ছোটকাকার পোষা কিম্ভূত প্রাণীটি পুলিশদের অপদস্থ করে কাহিনীর যে অংশে, সিনেমায় তা রীতিমত পীড়াদায়ক একটি দৃশ্যে পরিণত হয়। হঠাৎ কোত্থেকে সেট ধোঁয়ায় ভরে যায়, আর সেই একরাশ ধোঁয়ার মধ্যে সেই কিম্ভূতটি কয়েকজন কনস্টেবলরুপী অভিনেতাকে সজোরে রদ্দা মারে শুধু। ভজর ডাকাত হওয়া নিয়ে তার পিসিমার যে উল্লাস গল্পের অন্যতম মজারু বিষয়গুলির একটি ছিল, তা বেমালুম বাদ পড়ে যায় সিনেমায়।
চূড়ান্ত হাস্যকর হয়ে ওঠে শেষ দৃশ্য। রাজা রাণী তাদের ডাকাত হয়ে যাওয়া ছেলেকে ফিরে পায়। প্রথম থেকেই দর্শক জানে যে ডাকাতদলে যখন একজন সুদর্শন অভিনেতা আছেন তখন সেইই হারিয়ে যাওয়া রাজপুত্তুর। কিন্তু রাজপুত্তুর ফিরে আসার দৃশ্যে যে অঞ্জন চৌধুরীমার্কা মেলোড্রামা তৈরি হল তা কল্পনাতীত, তার মধ্যে আবার নোট বাতিল সংক্রান্ত একটি পলিটিকাল চুটকি দিয়ে বিষয়টিকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার চেষ্টা।
রাজপরিবার যে আসলে ঘুঁটের কোম্পানি-এই সত্য উন্মোচনের পেছনে শীর্ষেন্দুর একটি গভীর দর্শন ছিল, যা মর্মে গিয়ে ছোঁয়। সিনেমার শেষ অংশ দেখে মনে হতে পারে সেটি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক জনস্বার্থে প্রচারিত গোমাতার মহিমা বর্ণনা। ব্যর্থ গোয়েন্দা বরদাচরণের মজাটা ধরানোর জন্য ফেলুদা এব‌ং ব্যোমকেশের সঙ্গে টেলিফোনে কাল্পনিক কথোপকথনের যে সংলাপ লেখা হয়েছে, তা কাতুকুতু বুড়ো মার্কা প্রয়াস ছাড়া আর কিছুই নয়।
নস্টালজিয়া বিষম বস্তু। তাই বাঙালি দর্শকের স্মৃতিপটে সুড়সুড়ি দিলেই কেল্লা ফতে। কখনও ‘ইজাজত’ এবং জয় গোস্বামীর অসামান্য কবিতার ওপর ভর করে টক্সিক দাম্পত্যের জয়গান, কখনও বৃদ্ধ দম্পতির কনজুগাল জীবন নিয়ে টানাহেঁচড়া-আমদর্শকের জিয়া নস্টাল করলেই বক্স অফিসে সূর্য উঠবে। অতএব, ভালো সাহিত্য নিয়ে খারাপ সিনেমা বানিয়ে বিপণনে ‘যে দিন ভেসে গেছে’-র সুবাস ছড়িয়ে দিলেই দর্শক গলে আইসক্রীম। পয়সা উসুল। এই পরিচালকই আগে উত্তর কলকাতার নব্বইয়ের নস্টালজিয়া পর্দায় এনেছিলেন, খানিক হরলিক্সে চুবিয়ে। সেখানে বোঝা গিয়েছিল উত্তর কলকাতা অধুনা ধ্বস্ত জুরাসিক পার্ক, আর কেউ ওপথ মাড়ায় না। নস্টালজিয়া আদপে মৃত, বাংলা সিনেমাও।
Picture courtesy – Internet
Tags
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Bitnami