চলচ্চিত্রবিনোদন

বাদা বনে শিয়াল রাজা

মেঘদূত রুদ্র

সমালোচনা: এক যে ছিল রাজা

পরিচালনা- সৃজিত মুখার্জী

অভিনয়-যিশু সেনগুপ্ত, অঞ্জন দত্ত, অপর্ণা সেন, জয়া আহসান, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রুদ্রনীল ঘোষ, রাজনন্দিনী পাল, শ্রীনন্দা শঙ্কর

শুরুতেই বলে রাখি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ‘এ প্রিন্সলি ইম্পস্টার?’ বইটা, যার ওপর ভিত্তি করে এই ছবিটা তৈরি হয়েছে সেটা আমি পড়িনি। সমালোচনা লেখার আগে পড়ে নেওয়া যেত কিন্তু প্রয়োজন মনে করিনি। কারণ আমি অনেক সাহিত্য নির্ভর ছবি দেখেছি যার মূল টেক্সট আমি পড়িনি। কিন্তু ছবি উপভোগ করতে কোন সমস্যা হয়নি। যেমন ঋত্বিক ঘটকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ ছবিটি শক্তিপদ রাজগুরুর ‘চেনা মুখ’ নামক যে গল্প থেকে তৈরি সেটা আমি পড়িনি, জ্যঁ লুক গোদারের ‘লে মেপ্রিস’ ছবিটি ইতালিয়ান সাহিত্যিক অ্যালবের্তো মোরাভিয়ার ‘অ্যা ঘোস্ট অ্যাট নুন’ নামক যে গল্পের আধারে নির্মিত সেটা আমি পড়িনি, ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলার ‘দি গডফাদার’ ছবিটি একই নামের মারিও পুজোর যে উপন্যাস থেকে তৈরি সেটাও আমি পড়িনি। কিন্তু ছবিগুলির রস আহরণ করতে এতটুকুও অসুবিধা হয়নি। আর ব্যক্তিগত ভাবে আমি এটাও মনে করি যে সাহিত্য আর চলচ্চিত্র দুটো আলাদা শিল্প মাধ্যম। কাজেই সাহিত্য নির্ভর ছবি হলেও মূল টেক্সটের সাথে ছবিটির তুলনা করা উচিৎ নয়। কারণ মাধ্যমের পরিবর্তনের দরুন চলচ্চিত্র পরিচালককে গল্পের থেকে অনেক কিছু পরিবর্তন করতে হতে পারে এবং সেটা করাটা যথাযথ। এই নিয়ে বেশি কিছু বলব না। সত্যজিৎ রায় তার ‘বিষয় চলচ্চিত্র’ বইটির ‘চারুলতা প্রসঙ্গে’ প্রবন্ধটিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখে গেছেন। এর বাইরে নতুন করে কিছু বলার নেই। এবার মূল কথায় আসি।

ইতিহাস নির্ভর এই গল্পের সঠিক ইতিহাসটা যেহেতু আমার জানা নেই ফলে ধরে নিচ্ছি পরিচালক ছবিতে যা দেখিয়েছেন সেগুলি সব সত্যি। যদি কিছু ভুল থাকে সেটা ইতিহাসবিদরা বলতে পারবেন। আমার কাজ হল ছবিটার একটা ক্রিটিকাল অ্যানালিসিস করা। ছবিটি ইতিহাসনিষ্ঠ এটা ধরে নিয়ে বলতে হয় একমাত্র ইতিহাসনিষ্ঠতা একটা ছবিকে ভাল ছবি করে তুলতে পারেনা। তেমনই ইতিহাস বিকৃতিও ছবিকে খারাপ করতে পারেনা। আমরা কোয়ান্টিন টারান্টিনোর ‘ইনগ্লোরিয়াস বাস্টার্ডস’ ছবিটির উদাহরণ দিতে পারি। যেখানে উনি দেখিয়েছিলেন যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই হিটলার, গোয়েবেল প্রমুখ নাৎসি জার্মান নেতারা একটি প্রেক্ষাগৃহের ভেতরে মারা গিয়েছিল। ছবিতে পরিচালক ইতিহাসের একটা বিকল্প সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। ছবিটি গত ২৫ বছরে তৈরি একটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য ছবি। এজন্য কোন বিচক্ষণ সমালোচক টারান্টিনোকে অসৎ বলেন নি। যাই হোক ‘এক যে ছিল রাজার’ প্রসঙ্গে আসি। ভাওয়াল সন্ন্যাসী মামলার যেই বিখ্যাত ঘটনা নিয়ে ছবিটি তৈরি সেটা কম বেশি সবাই জানে। এর আগে একই ঘটনা নিয়ে নির্মিত উত্তম কুমার অভিনীত ‘সন্ন্যাসী রাজা’ ছবিটি অনেকেই দেখেছেন। কিন্তু এই ছবিটি খুবই দুর্বল ও সাধারণ মানের একটি ছবি। যার মধ্যে যত্নের খুবই অভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রথম দুর্বলতা হল তার সংলাপের ভাষা। ছবিতে তৎকালীন পূর্ববঙ্গীয় বাঙাল ভাষা খুবই খারাপ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিনেতাদের উচ্চারণও বেশ খারাপ। আমরা যারা এই ভাষাটা সঠিক ভাবে জানি এবং এখনও বলে থাকি তাদের কাছে খুবই শ্রুতি কটু লেগেছে। এটা দূর করার জন্য লম্বা অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল। খুব স্বাভাবিক ভাবেই সেটা করার প্রয়োজন মনে করা হয়নি। একমাত্র জয়া এহসান সঠিক ভাষা বলেছেন। কারণ উনি এই ভাষাতেই কথা বলেন। এজন্যই ওনার অভিনয় খুবই সাবলীল লেগেছে। বাকিরা যারা এই ভাষায় কথা বলেছেন তাদের অভিনয়ে একটা জড়তা থেকে গেছে। কারণ ওনারা যেটা বলছিলেন সেটা ১০০% বুঝে বলছিলেন না।

ছবিতে যিশু সেনগুপ্ত হলেন সেই মেজ রাজা মহেন্দ্র কুমার চৌধুরী, যাকে ঘিরে গোটা গল্পটা তৈরি হয়েছে। তার একজন বড় ভাই আছে এবং আরেকজন ছোট ভাই আছে। কিন্তু কেন বড় ভাইকে বাদ দিয়ে তিনি রাজা হলেন ছবিতে তার কোন কার্য কারণ নেই। আর ছোট ভাইয়ের ভূমিকায় যিনি অভিনয় করেছেন তাকে ছবিতে একটি বারের জন্যও দেখানো হলো না। শুধু একবার শোনা গেল তাকে প্রজারা কেউ মানে না। এবং শেষের দিকে শোনা গেল তিনি মারা গেছেন। কেন কি বৃত্তান্ত তার কোন ব্যাখ্যা নেই। ছবিতে একটি মাত্র দৃশ্যে দেখা যায় যে বাবার অবর্তমানে মহেন্দ্রর মা খুব কষ্ট করে এস্টেট রক্ষা করেছেন। খুব ভাল কথা। তারপর কিছুক্ষণ পরে তিনি মারা যান। তিনি যে অসুস্থ ছিলেন তার কোন রেফারেন্স দেওয়া হয়নি। এবং তার মৃত্যু কোন আবেগ বা শূন্যতাও তৈরি করতে পারেনি। কারণ তার চরিত্র এবং মহেন্দ্রর সাথে তার সম্পর্ক ছবিতে সঠিক ভাবে এস্টাব্লিসই করা হয়নি। ছবিতে অনেক কিছুই জাস্ট ছুঁয়ে যাওয়া হয়েছে। যেগুলো কোনো ইমপ্যাক্ট, কোনো প্যাথোজ তৈরি করতে পারেনি। প্রথম দিকে একটু বাঘ, একটু বঙ্গভঙ্গ, একটু সোনাগাছি পরের দিকে একটু মরুভূমি, একটু দুর্গম গিরি , একটু বেনারস, একটু কৌপীন পরা নাগা সন্ন্যাসী ইত্যাদি মিলিয়ে একটা সুন্দর প্যাকেজ আছে যার প্রায় কোন সিনেম্যাটিক মূল্য নেই। এগুলো না থাকলেও ছবিতে কোন অসুবিধা হতনা। যদি ছবিটা ভাল করে বানানো হত। কিন্তু আছে তার প্রথম কারণ ছবিটি মন দিয়ে বানানো হয়নি আর দ্বিতীয় কারণ হল এগুলি দিয়ে ছবির প্রচার করতে সুবিধা হয়। ভাল ট্রেলার বানানো যায়, গরম গরম কথা বলে ইন্টার্ভিউ দেওয়া যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়না। ছবিতে মহেন্দ্রর শালা সত্য এবং ডাক্তার অশ্বিনী মিলে ষড়যন্ত্র করে রাজাকে মারতে চায়। কিন্তু ডাক্তারবাবু কেন ষড়যন্ত্র করলেন সেটা স্পষ্ট নয়। শোনা যায় আসল ঘটনায় ডাক্তারের সাথে মহেন্দ্রর স্ত্রী চন্দ্রাবতী দেবীর অবৈধ সম্পর্ক ছিল। এই ছবিতে এসব কিছু নেই। প্রথম যেই দৃশ্যে রুদ্রনীল অর্থাৎ ডাক্তারকে দেখানো হল সেখানেই উনি অনির্বাণ অর্থাৎ সত্যর প্ররোচনায় হুরুমতাল শিশুর মত ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে পরলেন। কিছু ছুটকো ছাটকা ডায়লগের মাধ্যমে কিছু কারণ দর্শানো হয়েছিল কিন্তু সেগুলো খুবই ছেঁদো এবং একটুও বিশ্বাসযোগ্য নয়। তারপর মহেন্দ্র যখন নবজন্ম পেয়ে নাগা সন্ন্যাসী হল সেখানেও একটি অযৌক্তিক ব্যপার আছে। যিশুর সমস্ত স্মৃতি লোপ পেয়েছে। সে বাকি সন্ন্যাসীদের সাথে গোটা ভারতবর্ষ ঘুরছে।  হঠাৎ ভাওয়ালরুপী যিশু বলে উঠলো সে ঢাকা যাবে। ধরে নিলাম একটু স্মৃতি ফিরে এসেছে। কিন্তু তারপরই বাকি নাগারা বলল তুমি ঢাকা যাও কারণ তুমি ওখানকার রাজা। আর তার সঙ্গে কিছু দার্শনিক কথাও জুড়ে দেওয়া হল যেমন- এখনই এই মোহ মায়ার দুনিয়া থেকে মুক্ত হওয়ার সময় আসেনি ইত্যাদি ইত্যাদি। বাকি সাধুরা কীভাবে জানল যে যিশু ঢাকার রাজা? তার কোন সঠিক লজিক নেই। বলা হয়েছে তারা নাকি শুনেছিল এরকম একটা ঘটনা ঘটেছে। যেটা কোন ভাবেই তাদের শোনার কথা না। তখন ফেসবুক থাকলে এবং তারা সেটা করলেও জানার কথা না। আর জানলেও তারা এতদিন মানে প্রায় বহু বছর ধরে তাকে এটা বলেনি কেন সেটাও কেউ জানেনা। পরিচালক মহাশয়ের মাথায় হয়ত ছিল কিন্তু ছবিতে তা প্রকাশ পায়নি। তারপর আরেকটি অযৌক্তিক ঘটনা তৈরি হয়েছে মহেন্দ্রর বোন মৃন্ময়ী দেবী অর্থাৎ জয়া এহসান কে ঘিরে। ছবিতে একটি অংশে হঠাৎ দেখানো হল তিনি একজন সাধুর কাছে এসেছেন এবং তিনি মনে করেন যে তার দাদা অর্থাৎ মহেন্দ্র এখনও বেঁচে আছে। কেন তার এই ধারণা হল তার কোন ব্যাখ্যা নেই। তারপর আরও আশ্চর্য কোইন্সিডেন্স হল সেই সাধু বলে উঠলো যে জয়ার ধারণা ঠিক কারণ তিনি মহেন্দ্রকে বেনারসে দেখেছেন। আজব কাকতাল। বাস্তবের থেকে কয়েক কোটি হাত দূরে। এর পরেও শেষ নয়। ছবিতে মহেন্দ্র তার সমস্ত অতীত ভুলে গেছে এবং তার সাথে বাংলা ভাষাটাও সম্পূর্ণ ভুলে গেছে। হিন্দি বলছে। অথচ জয়ার সঙ্গে তার অত্যাশ্চর্য সংলাপ বিনিময় হচ্ছে, যেখানে জয়া ঢাকাইয়া বাঙাল ভাষায় কথা বলছে এবং সম্পূর্ণ বাংলা ভুলে যাওয়া যিশু সেটা বুঝে হিন্দিতে তার জবাব দিচ্ছে। আবার জয়াও সেই হিন্দি বুঝতে পারছে। তখন সিনেমার সাইলেন্ট পিরিয়ড। ফলে হিন্দি ছবি দেখেও জয়ার হিন্দি শেখার কোন উপায় ছিলনা। কীভাবে শিখল কেউ জানেনা। এর পরেও শেষ নয়। কোর্ট রুম দৃশ্যগুলো কেন সাদা-কালো করা হল তার কোন আঙ্গিকগত লজিক নেই। ফ্ল্যাশব্যাক দৃশ্য অনেক সময় সাদা কালোতে দেখানো হয়। যদিও সেই প্রথাও এখন প্রায় বিলুপ্তপ্রায়। কিন্তু প্রেজেন্ট টাইমকে কেন সাদা কালোয় দেখানো হল কে জানে। হয়ত কোর্টের দৃশ্য গুলো বেরঙিন অর্থাৎ তেমন কোন চমক বা প্যাকেজ নেই বলে তার জন্য সাদা কালো করা হতে পারে। এই দৃশ্য গুলিতে অঞ্জন দত্ত ও অপর্ণা সেন বাদী ও বিবাদী পক্ষের উকিলের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ভালই স্মার্ট অভিনয় করেছেন। অঞ্জন দত্তের অভিনয়ের আমি বরাবরই ভক্ত (কিন্তু তার ছবির ভক্ত একেবারেই নই; কেন নই সেটা বলার জায়গা অবশ্য এটা নয়)। ওনার কোন ছবির রিভিউ লেখার সুযোগ হলে বলব। যাই হোক দ্বিতীয়ার্ধের কোর্ট রুম দৃশ্য গুলি এবং বাকি দৃশ্যগুলি সিন্যামেটিক কম এবং থ্রিয়েট্রিকাল বেশি লেগেছে। এক নম্বর কারণ হল খুবই অজান্তে তৈরি করা সেটের জন্য। মানে ছবির সেট সাধারণত বাস্তববাদী হতে হয় যেখানে থিয়েটারের সেট বাস্তববাদী হওয়ার দাবী রাখে না। স্টেজকেই দর্শক বাস্তব জায়গা বলে ধরে নেয়। আর দ্বিতীয়ত বেশ কিছু চূড়ান্ত মেলোড্রামাটিক মুহূর্ত তৈরি করার জন্য। হঠাৎ করে লোকজন তাদের মানসিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে চিৎকার চেঁচামিচি করছে। চিৎকার চেঁচামিচি ওয়ালা অতি অভিনয় যাত্রা এবং কিছুটা থিয়েটারে মানায়। আর আবেগের মুহূর্ত তিল তিল করে তৈরি করতে হয় এবং একটা সময় গিয়ে সেটা চরমে নিয়ে যেতে হয়। তাহলেই দর্শকের মনে একটা ব্যঞ্জনা তৈরি হয়। নইলে কিছুই হয়না। ‘ফিল্ম ফর্ম’ নামক বইতে মহান রাশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা সের্গেই আইজেনস্টাইন এই কথাগুলি প্রায় ৬০-৭০ বছর আগে বলে গেছেন। কিন্তু অনেকে সেটা আজও বুঝলেন না। শেষের দিকে আরও দুটো প্যাকেজ আছে। দেশপ্রেম আর নারীবাদের প্যাকেজ। ‘এগুলো আজকাল বাজারে ভাল খাচ্ছে’ এজাতীয় ধারণা থেকে এসব ছবিতে কায়দা করে ঠুসে দেওয়া হয়েছে। আর সবকিছুই হচ্ছে হঠাৎ করে। ছবিতে মৃতদেহ নিয়ে শ্মশানে যাওয়ার দৃশ্যটা তিন বার দেখানো হল অথচ এমন অনেক কিছু দেখানো হল না যেগুলোর প্রয়োজন ছিল। যেমন মায়ের সাথে মহেন্দ্রর সম্পর্ক, ডাক্তারের বেইমানি করার কারণ ইত্যাদি এবং সর্বোপরি মহেন্দ্রর স্ত্রী চন্দ্রাবতী দেবী (রাজনন্দিনী পাল) কেন তার স্বামীকে চিনতে অস্বীকার করলেন তারও কোন কারণ ছবিতে দেখানো হল না। সেটাও পরিচালকের মাথায় হয়তো ছিল। কিন্তু ছবিতে নেই।

ছবির প্রথম অর্ধ তাও সহ্য করা যায়। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মাথা ধরে যায়। এই অর্ধে ছবি খুবই স্লথ এবং ঘাঁটা। ঘটনা কম সংলাপ বেশি। ড্রামা কম কায়দাবাজি বেশি। ঘুম পেয়ে যায়। অথচ স্লো ফিল্ম মানেই যে ক্লান্তিকর তা কিন্তু নয়। অতীতে অন্তোনিওনি, অ্যাঞ্জেলোপুলোস এবং বর্তমানে বেলা তার, চেলান প্রভৃতি বিশ্বমানের চলচ্চিত্র পরিচালকরা স্লো ফিল্ম বানান। সেগুলো একটুও বোর করেনা। যদিও এই ছবির সাথে সেগুলোর তুলনা করার কোন মানে নেই। আসলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিদ্যায় মাস্টার্স এবং পরবর্তী কালে পিএইচডি করার সুবাদে এগুলো প্রচুর দেখা হয়েছে। এবং নেম ড্রপ করার একটা বদ অভ্যাস তৈরি হয়েছে। সেটা দূর করা প্রয়োজন। ছবিতে যিশুর অভিব্যক্তি ভাল। উনি বেশ অনেকদিন ধরেই ভাল অভিনয় করছেন। কিন্তু এই ছবির চিত্রনাট্যের দুর্বলতা ও সংলাপের সমস্যা ওনার ভাল অভিনয়কে অনেকটাই মাঠে মেরে দেয়। তবে রাজনন্দিনী এবং শ্রীনন্দা শঙ্করকে অভিনয় শিখতে হবে। আর অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ম্যানারিজম ছাড়তে হবে। বুঝতে হবে যে থিয়েটারের অভিনয় আর সিনেমার অভিনয় এক নয়। শম্ভু মিত্রের মত লিজেন্ডারি থিয়েটারের অভিনেতাও ম্যানারিজম পূর্ণ অভিনয়ের জন্য সিনেমায় ফ্লপ হয়েছিলেন। জয়া এহসান বাকিদের থেকে তুলনামূলক অনেকটাই ভাল। এবং ছবির সেরা মুহূর্ত গুলো তিনিই দিয়েছেন। এছাড়া ছবির গানগুলি ভাল, ‘মহারাজ, একি সাজে…’ গানটার সম্পাদনা ভাল। ক্যামেরা কিছু জায়গায় ভাল। এছাড়া দু-আড়াই ঘণ্টার ছবিতে আর কিছুই ভাল নয়।

ছবিতে মহেন্দ্রর বিরুদ্ধে কোর্টে মামলা লড়ছিল তার শালা, ডাক্তার ও তার স্ত্রী। কিন্তু  ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াই কীভাবে হল তা দেখানো হল না। শালাবাবু ইত্যাদিদের সাথে ইংরেজদের যে কোন আঁতাত আছে সেটাও দেখানো হয়নি। প্রায় কিছুই ভাল করে দেখানো হয়নি। প্রচণ্ড একটা দায়সারা ভাব ছবিকে কুয়াশার মত সর্বক্ষণ লেপটে রেখেছে।

সমস্যা একটাই, এরকম দুর্বল ছবি পৃথিবীর সব দেশেই তৈরি হয়। কিন্তু কোথাও প্রশংসিত হয়না। পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র জায়গা যেখানে এই ছবির প্রশংসা এবং একে নিয়ে আদিখ্যেতা করা হয়। আর এসব এটাই প্রমাণ করে যে আমাদের একটা সোনালী সাংস্কৃতিক অতীত ছিল কিন্তু বর্তমানে তার কিচ্ছু অবশিষ্ট নেই। আছে শুধু একে অপরের পিঠ চুলকে দেওয়া এবং চাটুকার বৃত্তির এক আজব সংস্কৃতি। এই দুটোয় আমরা পৃথিবী বিখ্যাত।

পুনশ্চ- ভাওয়াল সন্ন্যাসী কেস নিয়ে এর আগে তৈরি ‘সন্ন্যাসী রাজা’ ছবিটি অনেকেই দেখেছেন। সেটিও দুর্দান্ত কিছু ছবি ছিলনা। কিন্তু ভাল ছবি ছিল। ছবিটাতে একটা সততা একটা সারল্য ছিল। এই ছবির মত কায়দা বাজি সর্বস্ব ছিলনা। আর সর্বোপরি ছবিতে উত্তম কুমার ছিলেন। যার ক্যারিশমা ছবির যাবতীয় দুর্বলতাকে ঢেকে দিয়েছিল। এযুগে উত্তমকুমার নেই, ফলত…

ছবি – ইন্টারনেট

মেঘদূত রুদ্র – যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্র বিদ্যা বিভাগ থকে মাস্টার্স করার পর বর্তমানে ওই বিভাগেই অধ্যাপক সঞ্জয় মুখার্জীর তত্বাবধানে গবেষণারত। বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সহযোগী পরিচালক হিসেবে কর্মরত। আনন্দবাজার পত্রিকায় ফ্রিল্যান্স চলচ্চিত্র সমালোচনা করে থাকেন।

 

Show More

Related Articles

8 Comments

  1. Is this a film review or the CV/resume of the critic? Maybe the film is rubbish, but this review is no exception. There are no honest opinion about how the film is, neither any critical analysis, there is only @how much does the critic know” (about international filmmakers, especially their names). Ultimately there is a few special ingredients that makes a writing attractive (although it sucks) -1. Mentioning the names of Satyajit Ray, Rittik Ghatak, Sambhu Mitra and Uttam Kumar etc. (tickling the Bengali sentiment)
    2. And ultimately saying Bengal had a golden age which is now lost.
    Stop writing these bullshits. This can seduce a majority of the readers, but not all, especially the section who has a minimum understanding on Films.

    1. You have good understanding on cinema but you dont know the actual spelling of legendary film maker called Ritwik Ghatak. Strange! 😮

  2. Sanyasi raja Uttam kumarer ekti onyotomo kharap cinema.. “jaha Kichu puraton tahai bhalo” ba “age ki sundor din kataitam” esob manosikota boddo cliche.. ek je chilo raja khub baje cinema Ami biswas Kori, Karon srijit parena.. Tobe review ta prochondo ek peshe.. “bhawal Sanyasi” ghotonae “what is what” ta ektu jene review ta lekha jete parto.. r ei cinema ke kharap bolar jonne, ” Ami biswer taboro film maker der Naam Jani” eta na dekhaleo cholto

  3. আপনার রিভিউটা পড়ে চমৎকৃত হলাম, মেঘদূত! প্রায় পুরোটার সাথেই একমত। শুধু একটা জায়গায় ভিন্নমত। ‘মহারাজ একি সাজে’ গানটা খুব ভাল গাওয়া হলেও তার প্রয়োজন ছিল বলে মনে হয়নি। যীশুর অভিব‍্যক্তি আর আবহসঙ্গীত ঐ দৃশ‍্যের জন‍্য উপযুক্ত অভিঘাত তৈরি করত বলে মনে হয়েছে। গানটা ভাল সিক‍্যোয়েন্সটাকে মাঠে মেরে দিল।

    1. ধন্যবাদ৷ আপনার মতামতকে সম্মান জানিয়েই বলছি যে ছবিতে ওই গানটার ব্যবহার আমার ভাল লেগেছে৷ এরকম হতেই পারে৷ ম্যান টু ম্যান ভ্যারি করে৷

  4. আমিও আপনার সাথে একমত। ভুতের ছেঁকে সিনেমাও একটা লজিক মেনে চলে। সেটি হল, ঐ সিনেমাটির নিজস্ব লজিক। এখানে কিছুই মানা হয়নি। ফলে হোঁচট খেতে খেতে বিরক্ত হতে হয়।

  5. Sanyasi Rajar porichalok Piyus Bose Tapan Sinhar assistant chilen. Subhas Chandra, Bikele Bhorer Ful, Sabyasachi proviti gurutwapurno chobi baniyechen. Onar chobi Anustup Chanda national award peyeche. R apni ololilay bole dilen Sanyasi Raja ekti onnotomo kharap chobi. Aschorjo byaper.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Bitnami