রাজনীতি

প্রিং প্রিং প্রিং

সৌগত রায়বর্মণ

হিমালয়ের গহীন অরণ্যে এক সাধু মার্গসঙ্গীতের সাধনা করেন। কঠিন তপস্যা করে সঙ্গীতের ব্রহ্মজ্ঞান তিনি লাভ করেছেন। তিনি যে কত বড় গুরু তা তাঁর ছাত্রদের দিকে তাকালেই বোঝা যাবে। যেমন উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, পন্ডিত রবিশংকর, উস্তাদ আলি আকবর খাঁ, পন্ডিত ভীমসেন জোশি  উস্তাদ আমজাদ আলি, পন্ডিত যশরাজ প্রমুখ। সবাই তার কৃপাধন্য। শোনা যায় জন লেনন নাকি তাঁর কাছে ওই হিমালয়ের গহন গুহায় নাড়া বেঁধে দীক্ষা নিয়েছিল। গুরু এইবার নাকি দেহ রাখবেন। খবর গেল তার আন্তর্জাতিক ছাত্রদের কাছে। দেহ রাখার আগেই যেভাবে হোক গুরুকে কলকাতায় নিয়ে আসতেই হবে। হোমল্যান্ডের মানুষ তার বাজনা শুনবে না? হতেই পারে না।
তারা দল বেঁধে হিমালয় অভিযান করে খুঁজে পেল মহাগুরুর গুহা। ভিতরে যাবার সাহস নেই। বাইরে থেকেই তারা গুরুদেবের চরণে প্রচুর কান্নাকাটি করে বলল, “হে গুরুদেব নারদমুনি আসার আগে একবার অন্তত কলকাতায় চলুন। ওখানকার মানুষ আপনার বাজনা না শুনলে আমরা দেহত্যাগ করব।”
গুরু এখন আর কী করেন! বললেন, “যাবো।  কিন্তু মাত্র এক রাতের জন্য। প্রথম ঊষালগ্নেই আমি দেহান্তরে যাবো।”
এটুকু কথাই যথেষ্ট। তাঁর আসার দিনক্ষণ ঠিক করে ছাত্ররা গড়ের মাঠই ভাড়া নেবেন বলে স্থির করলেন।
নির্দিষ্ট রাতে লক্ষ লক্ষ মানুষ গড়ের মাঠে এসে হাজির। লোকে লোকারণ্য। সবাই ধ্যানস্থ হয়ে গুরুর বাজনা শোনার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। প্রিং প্রিং প্রিং। মহাগুরুর দুই হাত সেতারে স্থির। বাম হাত একই ঘাটে। নামেও না, ওঠেও না। প্রিং প্রিং প্রিং।
পাক্কা দশ মিনিট পর শ্রোতারা একটু নড়ে চড়ে বসল। ব্যাপারটা কী? প্রিং প্রিং প্রিং। মানে কী? একদল তখন অন্যদলকে বোঝাতে লাগল, না না একটু পরেই মহার্ঘ্য সুর বেরিয়ে আসবে। এত বড় গুরু! একটু সময় নিচ্ছেন।
কিন্তু প্রিং প্রিং তো হয়েই যাচ্ছে। থামার কোনো লক্ষণ ই নেই। প্রায় এক ঘন্টা বাদে শ্রোতারা অতিষ্ঠ হয়ে উঠল। প্রিং প্রিং আর শোনা যাচ্ছে না। শ্রোতারা এবার গুরুর ছাত্রদের কাছে গিয়ে বলল, এটা কী হচ্ছে? তখন থেকে তো প্রিং প্রিং শুনেই যাচ্ছি। বাজনা কখন শুরু হবে? ছাত্ররাও বিব্রত। গুরুদেব কখন বাজনা শুরু করবেন?
কেটে গেল আরও ঘন্টা খানেক। শ্রোতারা এবার দাঁড়িয়ে পড়ল। তারা চিৎকার করে বলল, বাজনা কখন শুরু হবে? প্রিং প্রিং আর কতক্ষন শুনতে হবে?
গুরু এবার চোখ খুললেন। স্মিত হেসে বললেন, “ওরে সবাই তো সুর খুঁজছে রে! পাচ্ছে কজন? আমি তো পেয়ে গেছি। প্রিং প্রিং প্রিং।”
আমরা পেলাম কি পেলাম না, তাতে কিছু যায় আসে না। কেউ কেউ পায়।  যেমন মোদী পেয়ে গেছেন আচ্ছেদিন। ব্যাস পেয়েই তিনি প্রিং প্রিং প্রিং। বাঁহাত ওঠেও না নামেও না। আচ্ছেদিনে স্থির। আমরা পাইনি, তাই খুঁজছি আর শুনছি প্রিং প্রিং।
আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় এলেই প্রিং প্রিং হয়ে যান।  আর কিছু না হোক দেশের ৭৩ শতাংশ  মানুষকে তো গরীব বানিয়ে রেখেছেন।বড়লোককে আরও বড়লোক বানানোর উদ্দেশ্য সাধিত হওয়ার পরেই তারা প্রিং প্রিং হয়ে গেছেন। আমরা কিন্তু এখনো খুঁজছি।
প্রিং প্রিং-দের খুঁজে পেলে সবাইকে জানাবেন প্লিজ। নইলে আমরাও প্রিং প্রিং হয়ে যাবো।

ছবি – ইন্টারনেট

Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Bitnami