চলচ্চিত্রবিনোদন

কিংখানের কিংখাব: জিরো টু হিরো

অনিরুদ্ধ বল এবং অর্কজা আচার্য্য

আশিষ নন্দী, সুধীর কাক্কররা অমিতাভ এরা-র সিনেমায় দেখছিলেন মিথের ছায়া, কালেকটিভ আনকনশাস, পুরাকল্প প্রভৃতি। তো সেই দিওয়ার কালা পাথরের যুগ ফুরোল। আশির দশক শেষ হয়ে নব্বইয়ে পড়তেই ভারতবর্ষের মাথার ওপর রাহুকেতু উঁকি দিতে থাকল। একদিকে ভাঙছে বাবরি মসজিদ, অন্যদিকে গ্যাট চুক্তির জোরে ভারতের দক্ষিণ খোলা জানলায় ঝড় অপেক্ষারত। এমন সময় টিম ইন্ডিয়াতে সচিন সৌরভ দ্রাবিড়ের হোলি ট্রিনিটি, মধ্যবিত্তের জাতীয়তাবাদী ক্রিকেটদর্শন শুরু। আর সিনেমায় শুরু খান জমানা। বিশ্বায়িত এন আর আই নায়ক, অথবা ‘কভি হাঁ কভি না’-র ফেল করা নায়ক, কিং খান তখন ভারতীয়ের হৃদয়ে সেঁধিয়ে গেছেন। জন্মদিনের পর জন্মদিন যায়, মান্নত সেজে ওঠে। বহু ফ্যানের পাগলামি অটুট থেকে যায়। ভারতবর্ষ পাল্টায়, সাম্প্রদায়িক বিষে। মান্নতের মহিমা অনাবিল। তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন লেট নব্বইয়ের এক যুবক ও যুবতী
 “নাম তো সুনাহি হোগা”
-অনিরুদ্ধ বল
সেলুনে যাবো আর রোজ শালা নাপিত চাকা লাগানো চেয়ারের উপর কাঠের তক্তা দিয়ে তার উপর বসিয়ে চুল কাটাতে বসাবে আর যেই কাঁচি ধরলো ওমনি ইডেন গার্ডেনের মালি । তবে মিথ্যে কথা বলবো না বিদ্রোহ কিন্তু তখন থেকেই শুরু ,এমন চুলের ছাঁট দরকার যা দেখে মনে হবে সিঁথেটা একদম মাঝখানে ঠিক নয় যেন খানিক বামঘেঁষা হয় আর সিঁথের দুইদিকে চুলগুলো হালকা ফুলে থাকা মাস্ট, মোট কথা রাহুলের যেমন চুলটা থাকতো আমারও ওরকমই চাই।
সত্যি কথা বলতে আমি লোকটার ভক্ত টক্ত কখনোই ছিলাম না ,কিন্তু ওই যে নিজেকে প্রথম আয়নায় খুঁটিয়ে দেখতে শিখছি ।সলমনের হাতের গুলি আমার কাছে আকাশের চাঁদ ,আমিরকে তেমন চিনি না, একমাত্র ওই লোকটার প্রতিই কেমন যেন হিংসে কাজ করতো ,মনে হতো ব্যাটার ওই চেহারা দেখে এত লোক পাগল , ফর্সা সুন্দরী নায়িকারা জান দিয়ে দিচ্ছে তাহলে আমি কি দোষ করলাম ! কিন্তু রাহুলের চুল তো আজন্মকাল ভেজা থাকে ,তখন হেয়ার জেল টেলের ব্যাপার জানতাম না অগত্যা মাথার চুল চপচপে করে ভিজিয়ে ব্যাক ব্রাশ করতাম আবার গোটা ব্যাকব্রাশ করলেও হবে না ফলে কয়েকটা চুল সামনের দিকে টেনে নামিয়ে দিতাম তারপর বাড়ি থেকে একটুও মাথা না নাড়িয়ে বের হতাম যদিও সেই পাটের শনে গিয়েই ব্যাপারটা থামতো তাও শেষরক্ষা হয়েছিল নারকোল তেল আর জলের মিক্সচারে। এত কিছু করে যখন পাড়ার পুজো প্যান্ডেলে গেলাম দেখলাম আমার থেকে বয়সে বড়ো দাদাদের কেবল চুলেই নয় বরং পোশাকেও শাহরুখ খানত্ব আমার থেকে অনেক গুণ বেশি কারন ওরা এর মধ্যেই কিনে ফেলেছে পোলো স্পোর্টসের চাপা জার্সি কাপড়ের গেঞ্জি আর গলায় cool লেখা লকেট।
শালা কদম ছাঁট থেকেই সদ্য মুক্তি পেয়েছি আর আমি নাকি আবার পরবো গলায় cool লেখা লকেট অগত্যা সেই মিকি মাউসকেই টি শার্টে নিয়ে বিমর্ষ হওয়া। এর মধ্যেই ঘটে গিয়েছিল বদল; আগে প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ওই লোকটা, আস্তে আস্তে কী করে জানি না লোকটা প্রতিযোগিতার ফিনিশিং লাইনে পরিণত হল , যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেল পাড়ার দাদারা। তখনও মোবাইল ফোন আসেনি টিভিতেও চ্যানেলের সংখ্যা হাতে গোনা তার মধ্যে যে যে চ্যানেলগুলো দেখার পারমিশন আছে সেগুলোর সংখ্যা আবার করে গোনা , মানে হয় কার্টুন নাহলে এনিম্যাল প্ল্যানেট আর জন্তু জানোয়ারের বংশবিস্তার দেখানো হলে তখন হাতে রইলো শুধুই কার্টুন, তার মধ্যেও এই জেড ক্যাটাগরির সিকিউরিটি এড়িয়ে এম টিভিতে গিয়ে চোখের নিমেষে “ছাইয়া ছাইয়া” আর স্টেপগুলো দেখে নেওয়া কারন স্কুলে ইতিমধ্যেই দুজন সেই স্টেপ তুলে নিয়ে আমার থেকে অনেক এগিয়ে ,মাঝে মাঝে মনে হতো – ধুস ! ওই মেয়েটা পেট দেখিয়ে নাচে বলেই না ওটা দেখা নিয়ে এত কড়াকড়ি তার থেকে শুধু ওই নাচটায় শাহরুখ থাকলেই হতো । তারপর একদিন টিফিন পিরিয়ডে বেঞ্চের উপর দাঁড়িয়ে ক্লাসে “ছাইয়া ছাইয়া” দেখাতে গিয়ে স্কুলে মাথা ফেটে রক্তারক্তি কান্ড ,যদিও তাতে দুঃখ নেই কারন ডি ডি এল জে-তে লোকটাকে রক্ত মাখা অবস্থাতেও দেখে নিয়েছি ; ইস ! আরেকটু বামদিক ঘেঁষে মাথাটা ফাটলে পুরো ওইরকমই মনে হতো ..তারপর ট্রেন হাত.. হাত ট্রেন ..ট্রেন হাত- কিন্তু ডনকে ধরা মুশকিলই নয় অসম্ভব, এরকম অনুবাদও হয়েছিল। তখন জুলপি কানের মাঝামাঝি থাকতো আর পান বেনারসওয়ালা দেখে স্কুল থেকে ফেরার রাস্তায় ডেইলি একটা করে পান, কিন্তু ঠোঁট তো ওই লোকটার মতো লাল হচ্ছে না ! খয়ের ! তখন জানলাম খয়েরই হলো আসল জিনিস ,যে বয়স্ক লোকের থেকে পান কিনতাম তাকে বললাম বেশি করে খয়ের দিতে । ভদ্রলোক বেশ নীতিবাগীশ ছিলেন ,শুনতে হলো – এখন খয়ের চাইছো ..এরপর জর্দা চাইবে ..তারপর সিগারেট ..তারপর বিড়ি ..এরকম সময়ই হাতে ঘুষি বাগিয়ে চিৎকার করতে ইচ্ছে করছিল ঠিক যেমন ভাবে ডি ডি এল জে- তে লোকটা অমরীশ পুরীর দিকে তাকিয়ে করেছিল আর অনুপম খের আটকে নিয়েছিল ..এরপর জীবনে পাকা বন্ধু, পাকা বই,পাকা সিনেমা এসব জুটলো..জুলপি দীর্ঘতর হলো । তখন সিনেমা টিনেমা ভালোই দেখি, নিজে বেশি কিছু না বললেও বন্ধুদের আলোচনা শুনি ,বেশ কিছু ইংরেজি অভিনেতার নামও জেনে যাই । প্রিয় অভিনেতা জিজ্ঞেস করলে প্রথমেই বলতাম লিওনার্দো দি ক্যাপ্রিও তারপরের আসনেই বসিয়ে দিতাম স্ট্যালোনকে আর তারপরেই ব্রুস লিকে । বন্ধুরা বলতো লোকটা over acting করে আর আমিও তাই খোঁজার চেষ্টা করতাম ,যদিও যেটাকে ওরা over acting বলতো সেটা দেখতে বেশ ভালোই লাগতো ,তবুও খানিক আঁতেল হওয়ার চেষ্টা! ওদিকে হবু প্রেমিকাকে ইমপ্রেস করার জন্য অরকুটে ভরপুর ওই লোকটারই লাইন ঝাড়া ..খানিক ইয়ার্কি করে ..খানিক দুষ্টু হয়ে রোমান্স আরো নির্দিষ্ট করে বললে মাসল না ফুলিয়ে সেন্স অফ হিউমার দিয়েও যে মেয়ে তোলা সম্ভব এই লোকটার কাছ থেকেই শেখা আজ তা স্বীকার করতে লজ্জা নেই..অর্থাৎ বলা যেতে পারে ব্যারিটোনিও , ছয় ফুটিও , সদারাগত পৌরুষের চাপ থেকে এই লোকটাই আমাদের মতো নব্বই দশকে বড়ো হওয়া ছেলে পিলেদের মুক্তি দিয়েছিলেন । তবুও আঁতলামি করে বলেছি হলিউডের লোকজনদের নাম এমনকি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়দেরও নাম বলেছি কিন্তু এই লোকটাকে বামহাতে ফুল ছুঁড়েছি । পরে অভিনয়টা যখন খানিক বুঝতে চেষ্টা করলাম তখন বুঝেছি এই লোকটার চোখের কাজ এবং কমিক টাইমিং বা বড়ো ডায়ালগকে হ্যান্ডেল করার ক্ষমতা।
যাই হোক এসব আমার পোস্ট দাড়ি গোঁফ ভাবনা। আমার কাছে হয়তো লোকটা বামদিক ঘেঁষা মাঝখানে সিঁথি , চাপা পোলো টি শার্ট হয়েই থাকতে পারতো নব্বই দশকের ল্যান্ডফোন বা টেপ রেকর্ডারের ক্যাসেটের মতো কিন্তু শালা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে জানি নিজেকে প্রাসঙ্গিক করে চলেছে। নাহলে কমেডিয়ান কপিল শর্মা যখন ইনস্টাগ্রাম পোস্ট দেখিয়ে জিজ্ঞেস করে –
শাহরুখ ভাইয়ের মধ্যে মাঝরাতে কবি কোত্থেকে জেগে ওঠে ?
তখন লোকটা সটান জবাব দেয় – তোর মধ্যে মাঝরাতে দেশভক্তি যেখান থেকে জেগে ওঠে ।
“তুম পাস আয়ে, কিঁউ মুসকুরায়ে”
-অর্কজা আচার্য্য 
“I sell dreams and I peddle love to millions of people back home in India who assumes that I am the best lover in the world”
মধ্যরাত থেকে যার ছবিতে মোটামুটি সোশ্যাল মিডিয়া উপচে পড়ছে তার বলা কথা দিয়েই তার “অরা” -কে বুঝিয়ে দেওয়া যায়। শাহরুখ খান। আমার ঘরটা যখন রং হয়নি আমার সামনের দেওয়ালটায় চারটে” পোস্টার ছিল। একটা “বাজিগর”, একটা “ইয়েস বস”, একটা “চক দে ইন্ডিয়া” আর একটা “ওম শান্তি ওম”-এর শাহ্রুখ খান। ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘তিতলি’-তে কঙ্কনা সেনশর্মার ঘর যেমনটা ছিল, মনে পড়ে? কতকটা সেইরকম। তখন ইন্টারনেটের বাজার এতটা রমরমে হয়ে ওঠে নি,তাই এই পোস্টারগুলো খুঁজতে আমায় যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। মেলা টেলা ঘুরে লোকটার ওই হাসিটা, ওই পোজটাই আমার চাই, বুঝতেই পারছেন।
আজ ২রা নভেম্বর তার জন্মদিন। উনি আজ মন্নতের গেটে উঠে নানান বিভঙ্গ দেখাবেন। আর আমার মত পাগলরা সেটা দেখব বলে হাঁ করে বসে থাকব। উনি মুম্বাইয়ে বসে হাসবেন আর আমি কলকাতায় বসে ব্লাশ করব। এই হল গিয়ে আমাদের শাহরুখ খান, বা সংক্ষেপে আমার শাহরুখ খান। কেন এমনটা হয় সেটার কারণ জানতে চেয়ে লজ্জা দেবেন না,ওনাকে দেখে এমনটা হয় টয় আর কি। আমি একা নই অবিশ্যি, এই ব্লাশ করার দলে গোটা দেশের অগুনতি মানুষই পড়বে বলে আমি নিশ্চিত; লিঙ্গ নির্বিশেেষে।
আমার মনে আছে ২০১৫ সালে আমি প্রথম মুম্বাই শহরে যাই একটি নাটকের শো করতে। নাটকের শো করার পাশাপাশি যেন তেন প্রকারেণ আমায় একবার মন্নতটা ঘুরে আসতেই হবে এরকম একটা বাধ্যবাধকতা ছিল। আমার সঙ্গে আরও দুজন সহ অভিনেতা ছিলেন যাদের উত্তেজনাটাও এই ব্যাপারে বেশি বই কম ছিল না। ওই যে বললাম দেশের নব্বই শতাংশ মানুষ আমার দলেই আছে আর কি। আর উত্তেজনাটা আরও বেশি ছিল কারণ আমরা যেদিন মুম্বাই পৌঁছেছিলাম সেদিন শাহরুখ আর কাজলের “কামব্যাক” সিনেমা “দিলওয়ালে” রিলিজ করেছিল। আমার তো আবার “বাজিগর”,”দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েংগে”, ‘করণ অর্জুন”,”কভি খুশি কভি গম”,”কুছ কুছ হোতা হ্যায়”, ” মাই নেম ইজ খান” সবই কন্ঠস্থ, নব্বইভাগ নব্বইয়ের সন্তানদের যেমনটা হয় আর কী! এমন কি “ওম শান্তি ওম”-এ কাজলের সাথে শাহরুখ-র দু মিনিটের নাচের ঝলকও আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতন বার বার দেখি। ফলত এমন ব্রাহ্মমূহুর্ত, এরকম মোক্ষম সময়ে মন্নত তো আমায় যেতেই হবে । ছুটলাম মাঝরাতে শো টো সেরে, মাঝরাত ছাড়া উপায় নেই; পরের দিন ভোরে ট্রেন। কতটা বেপরোয়া বুঝতেই পারছেন?
আমরা মন্নতে পৌঁছেছি রাত ২ টো নাগাদ। সেইসময় ওখানে অন্তত ৫০জন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে এবং তার মধ্যে অন্তত দশজন মেয়ে। সেইসব লাজেরাঙা অথচ সোচ্চার প্ল্যাকার্ডে লেখা “আই লাভ ইউ শাহরুখ”, “ম্যারি মি এস আর কে”, “ম্যায় আপকে লিয়ে জান দেনে কে লিয়ে তৈয়ার হু” ইত্যাদি ইত্যাদি। কৌতূহলবশত আমি কিছু মানুষের সাথে কথাও বলেছিলাম। বিশ্বাস করবেন না; একজন মেয়ে সত্যি তার বাড়ি ছেড়ে এসেছে শাহরুখ খানকে বিয়ে করবে বলে। মন্নতের সিকিউরিটি গার্ডদের থেকে জানতে পারি শাহরুখের জন্য দিওয়ানা এমন মেয়েরা রোজ ১০-১২জন করে হাজির হয়। একবার একটি মেয়ে নাকি প্রায় দু মাস টানা এসে বসেছিল শাহরুখকে বিয়ে করবে বলে; শেষমেশ পুলিশ দিয়ে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়‌। মেয়েটি নিশ্চয় শেষমেষ বলেছিল, “বড়ি বড়ি শহরো মে অ্যায়সি ছোটি ছোটি বাতে  ” ইত্যাদি…
অনেকেই ভাবেন, ওই বেঁটেখাটো মানুষটার ভিতরে কী এমন অমূল্যরতন থাকতে পারে যাকে ঘিরে এতোটা পাগলামো? এর উত্তর আমার কাছে নেই। আমি হয়ত কখনোই ওই হতভাগ্য মেয়েটি হবনা, যে শাহরুখ খানকে বিয়ে করবে বলে মন্নতের সামনে গিয়ে ধর্না দিয়ে বসে থাকতে পারে টানা দুমাস। কিন্তু লোকটা যখন স্ক্রিনে আসেন বা কথা বলেন আমার ওনার দিকে স্তব্ধবাকের মতন চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছু করার থাকে না।
কেন চেয়ে থাকব না বলতে পারেন? শুধু অভিনয় নয় শাহরুখের ইন্টার্ভিউ বা এমনি কথা শুনলেও ওর অপ্রতিরোধ্য ক্যারিশমা-টা কেমন জানি ম্যজিকের মত কাজ করে যায় আপনা আপনি। বলিউডের টল ডার্ক হ্যন্ডসামদের প্রতি বলে ছক্কা মারার ক্ষমতা রাখে এই মানুষটা। মায়ার মত লাগে, যখন তাকায়, হাঁটে, কথা বলে। “জব হ্যারি মেট সেজল” দেখেছিলাম হলে গিয়ে। কাউকে বুঝিয়ে বলতে পারব না, মানুষটা ঠিক এইভাবে তাকালে বুকের ভিতরটা কীরকম অদ্ভুত ভাবে শিরশির করে উঠবে। আমি গোটা সিনেমাটা জুড়ে অনুষ্কা শর্মার জায়গায় নিজেকে ভেবে গেছি। কার সাথে গেছি সিনেমা দেখতে, সিনেমা দেখার সময় সেসব গুলিয়ে যায়। ভিতরের সমস্ত সত্তাটা যেন স্ক্রিনে উপস্থিত চরিত্রটার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। ব্যক্তিগত প্রেমিকের সাথে ঝামেলাটা কীরকম মিলিয়ে মত যায় কল্পবুদ্বুদের মতন। শাহরুখ অভিনীত চরিত্র যেন জীবন্ত হয়ে পাশে বসে থাকে। কীরকম বাধ্য করে যেন ভাবতে “ইস ওর মত যদি হত আমার প্রেমিকটা” “যদি ওইভাবে হাসত কথা বলত গাইত,নাচত”। ক্যাবলা ছেলের পাশে বসে সিনেমা দেখা মেয়েটি তখন কল্পলোকের জাল বোনে। কত ‘না’ থেকে ‘হ্যাঁ’ হয়ে ওঠা প্রেম তখন উথালপাথাল হয়। নব্বইয়ের দশক, বিশ্বায়ন পেরনো কোনো কাল্পনিক ভারতবর্ষের প্রেমগাথা দেখি হলে বসে ওই মানুষটিকে দেখার সময়, মুছে যায় আমার দেশের সব গ্লানি।
আসলে শাহরুখকে খুব সহজ মনে হয় জানেন। জড়িয়ে ধরতে পারে খুব সহজে। নিজেকে “seller of dreams” বলতে পারে এত দৃঢ় ভাবে তাই। আজকের এই হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীটায় ভালবাসার কী প্রয়োজন সেটাও কীরকম সোজা ভাষায় বলে দিতে পারে। ” king of romance” আমার কাছে বা আমার মত আরও হাজার হাজার মানুষের কাছে ভালবাসার প্রেমের চিরন্তন মেটাফর হয়ে বেঁচে থাকুক। খুনোখুনির সাম্রাজ্যে তার প্রেমের চাহনি আইডিয়াল হয়ে থাকুক।
“জিরো”-র ট্রেলার বেরোল এই লেখাটা লিখতে লিখতে। ২১এ ডিসেম্বর রিলিজ করছে। আবার মুগ্ধ হয়ে লেখা থামিয়ে ট্রেলারটা আমি বার পাঁচেক দেখে ফেলেছি। আপনারাও দেখুন। শুভ জন্মদিন শাহরুখ খান। আরও ভালবাসা প্রেম দিয়ে আমার মত পাগলদের ভরিয়ে রাখুন। শুভকামনা।
ছবি – ইন্টারনেট
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Bitnami