মত-মতান্তর

ইন্টারভিউ

আদিত্য বিক্রম সেনগুপ্ত – প্রেমিক বলে বাংলা ছবির যুগাবতার, নিন্দুকে বলে এস্থেটিকাল ইমিটেশান অফ গোল্ডেন এরা। তাকে এড়িয়ে আজকের বাংলা ছবি সম্পর্কে আলোচনা চালানো সম্ভব নয়, একথা অবশ্য অতি দুর্জনেও মেনে নিতে বাধ্য। পরবর্তী ছবি জোনাকির প্রোডাকশন নিয়ে ব্যস্ততা তুঙ্গে। অতএব দ্বিরালাপ এইটুকুই – অর্ক দেব।

তুমি তো সেন্ট জেভিয়ার্সের ছাত্র ছিলে ?

হ্যাঁ, সেন্ট জেভিয়ার্সে ভর্তি হই লিটারেচার পড়তে। সেখানে দুবছর পরে আমি চলে যাই এন.আই.ডি (আহমেদাবাদ) তে গ্রাফিক ডিজাইন পড়তে। লিটারেচার এবং ফাইন আর্টস এই দুটো বিষয়ে আমার অল্প বয়েস থেকেই ইন্টারেস্ট।

গ্রাফিক ডিজাইনের সুরক্ষিত কেরিয়ার ছেড়ে ছবি করতে চলে এলে ?

কোর্স শেষ করেই ছবি করা শুরু করলাম গল্পটা ঠিক এমন নয়। এন.আই.ডি থেকে বেরিয়ে আমি সাড়ে তিন বছর চ্যানেল ভি এর জন্যে কাজ করি। তারপর ফ্রিলান্সিং শুরু করলাম। বোম্বেতে এসে অ্যাড ফিল্মে মন দিই।

এই সময়েই কি কিউর ওপর একটা কাজ করেছিলে ?

দ্যাট ওয়াজ এ ফিল্ম অফ কোক অন কিউ। ব্রিফটা ছিল – এমন একজনের ওপর কাজ করতে হবে যে প্যাশনের জন্যে কেরিয়ার ছেড়েছে। ডায়েট কোক ইউএসএ থেকে এটা করেছিল। আমি কিউর কথা জানতাম যে সত্যিই ফিল্ম করবে বলে অ্যাডের নিশ্চিন্ত কেরিয়ার ছেড়ে দিয়েছিল। তাই ওর ওপর কাজটা করব ঠিক করি।

তুমি তোমার কেরিয়ারটাও তো শিফট করলে ?

হ্যাঁ, তো বোম্বেতে অ্যাড ফিল্মের কাজের দরুন হাতে প্রচুর টাকা আসা শুরু হল। আমি একটা লুপে পড়ে গেলাম। আমার নিজস্ব চিন্তাভাবনা নষ্ট হচ্ছিল। নিজস্ব কোনো কাজ হচ্ছিল না। আমার যা লাইফস্টাইল তার জন্যে এত টাকার প্রয়োজন নেই আমার। আমার প্রয়োজন খুব সামান্য, সেগুলোর জন্যে সত্যি এতগুলো টাকা লাগে না। সেই জন্যেই সব ছেড়েছুড়ে চলে আসা।

কোন ধরনের ছবি তোমায় সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করে ?

আমি সবধরনের ছবিই দেখি। তবে সব থেকে বেশী প্রভাবিত হয়েছি পুরোনো দিনের বাংলা ছবি থেকে। ওটাই আমার রুট।

আসা যাওয়ার মাঝে ছবিটার ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে বাজারে নানা গুজব আছে। যেমন ছবিটা ভেনিস,লন্ডন,রটারডাম,মারাকেশ(মরক্কো) এবং ফেস্টিভাল সার্কিটের অন্য নানা পীঠস্থান ঘুরে আসার পরেও ঠিকমত ডিস্ট্রিবিউট করা যায় নি। আসা যাওয়ার মাঝের বিজনেস মডেলটা বাংলায় কি ছিল একটু খোলসা করে বলবে ?

বাজারের হোক্সগুলো কিভাবে ছড়াল আমি জানি না। প্রথমেই বলি টাকা রোজগারের জন্যে আমরা এই ছবিটা ডিস্ট্রিবিউট করতে চাই নি। ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভ্যাল সার্কিট থেকে অনেক আগেই আমাদের টাকা রিকভার হয়ে গিয়েছিল। এক্সিবিশান পারপাসটাই আমাদের ফোকাস ছিল। আইনক্সে যাওয়ার আগে আমরা এখনকার বেশ কিছু ডিস্ট্রিবিউটের সাথে কথা বলি। তাঁরা সকলেই কমবেশি পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকার একটা এস্টিমেট দেন দেন। আমার প্রশ্ন ছিল এই অহেতুক খরচটা করব কেন ? যেমন সব জামা সবার গায়ে মাপমতো হতে পারে না, ঠিক তেমনই সব ছবি সবার না। এই ছবির অডিয়েন্স সম্পর্কে আমার পরিষ্কার ধারনা ছিল। ফিফটি থিয়েটার্স অ্যাক্রস বেঙ্গল – এই মডেলে আসা যাওয়ার মাঝে রিলিজ করাটা অ্যাবসার্ড প্ল্যান হতো। ফলে আমরা হাত তুলে দিলাম।

এই সময়েই কি সুমন ঘোষ দায়িত্ব নিলেন ?

হ্যাঁ এই সময়েই সুমন দার সাথে যোগাযোগ হল। উনি এই ছবিটার এক্সিবিশান স্পনসর করেন। আমরা তখন আইনক্সের সাথে কথা বললাম। আইনক্স আমাদের একটা তালিকা দিল। আমরা বললাম এতগুলো ভেন্যু দরকার নেই, আমাদের সাউথ সিটি আর সিটি সেন্টারে শো দিন। আমাদের ছবি স্কুল কলেজ কেটে কেউ দেখতে আসবে না, অনেকেই আসবে কাজের পর। ফলে আমরা সাতটার স্লটটা চাইলাম। ততদিনে নন্দনে চলে এসেছে ছবি। প্রথমে দুইয়ে, কিছুদিনের মধ্যে একে দেখানো শুরু হল। নন্দন, সিটি সেন্টার এবং সাউথসিটি আইনক্স হাউসফুল হয়েছিল অনেকটা সময় ধরে, টিকিটের একটা ক্রাইসিসও তৈরি হয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আইনক্স কর্তৃপক্ষ শো বাড়াতে চাইল। তখন ওরা হাইল্যান্ড পার্ক আর কোয়েস্ট মলে শো চালু করল। ছয় সপ্তাহ পরে বড় ব্যানারে নতুন ছবি এলে আমাদের টাইমিংটা বদলে দুটো করে দেওয়া হয়। বলতে পারো আমাদের একটা থিয়েটার শো এর মডেল ছিল । আই ক্যান ক্লেইম ডিস্ট্রিবিউশন ওয়াজ দ্যা স্মুদেস্ট পার্ট অফ দ্যা জার্নি।

আসা যাওয়ার মাঝে হলে রিলিজ হয় ২৬ জুন, ২০১৫। তাঁর কিছুদিন আগে থেকে মেইনস্ট্রিম মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজির সাথে পাল্লা না দিয়ে তোমরা অন্যভাবে বাজারকে জানান দিতে শুরু করলে। সেইটা কিন্তু গত দেড় বছরে একটা মার্কেটিং ব্লু প্রিন্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে অনেক ছোট প্রযোজকদের কাছে।

আমরা একটা বিকল্প মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি বেছে নিয়েছিলাম আমাদের পোস্টার ছিল প্রচুর, কিন্তু হোর্ডিং ছিল না। সোশ্যাল মিডিয়া কে আমরা দারুণভাবে ব্যবহার করতে পেরেছিলাম। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শর্মিলা ঠাকুর, অভয় দেওয়াল,মোটওয়াণী আমাদের জন্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় টেসটিমনিয়াল দিয়েছিলেন। সেগুলি দ্রুত ছড়িয়ে পরে। অনেকে ফেসবুক পেজে নিয়মিত মিনিমাল পোস্টার তৈরি করত। ছাত্ররা ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে, কলকাতার নানা দেওয়ালে গ্রাফিটি এঁকেছিল। সেগুলি পথচলতি সেরিব্রাল মানুষজনের নজর এড়ায় নি।

আমি আসা যাওয়ার মাঝে বড় পর্দায় দুবার দেখেছি। একবার এস.আর.এফ.টি.আই –এ, তারপর নন্দনে, রিলিজ হওয়ার পরে। আমার নন্দনে ছবিটার এক্সপোজার ভাল লাগে নি, বড় পর্দায় সাবডিউড লাগছিল। এটা কি প্রজেকশনের সমস্যা?

এস.আর.এফ.টি.আই এবং কলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে, দু জায়গাতেই ডিসিপি ফরম্যাটে ছবিটার প্রজেকশন হয়েছিলো। ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে আমি আগে একদিন প্রজেকশন চেক করেছিলাম। ইট ওয়াজ বিউটিফুল। এরপর যখন পরে নন্দনে নিয়মিত দেখানো শুরু হল তখন আমি শহরে ছিলাম না। ওখানে খুব সম্ভবত ডিভিডি চালানো হয়। লুমিনেসেন্সের কিছু সমস্যা ছিল সম্ভবত।

আসা যাওয়ার মাঝে’র ক্রেডিট লিস্ট ও উইকি পড়ে বাঙালি তো আপনাকে সব্যসাচী বলছে। ছবির সিনেমাটোগ্রাফি সম্পাদনা, দুই জায়গাতেই তোমার নাম। সিনেমাটোগ্রাফি করবে তা কি আগে থেকেই ঠিক ছিল ?

না না,এইটা আমায় নিতান্তই ইচ্ছের বিরুদ্ধে আমায় করতে হয়েছে। আমাদের সিনেমাটোগ্রাফার শেট্টি (মহেন্দ্র শেট্টি) সময়মতো সেটে আসতে পারে নি বলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই করা। উতরে দিয়েছি বলতে পারো। তবে হ্যাঁ, এডিটিং আমার প্যশানের জায়গা।

আসা যাওয়ার মাঝে কোন জনরের ছবি তাই নিয়ে ছবি তৈরির দুবছর তিনমাস বাদেও আজ নতুন করে কথা হয়। নিওরিয়েল, এপিক্যাল স্লো সিনেমা ইত্যাদি নানা ধারার কথা আসে, চেলান ডায়াজকে নিয়ে এসে তুলনা প্রতি তুলনায় মাতে ছাত্র –শিক্ষক, অ্যাকাডেমিক পৈতেধারী অথবা নিছক ভাবসর্বস্ব ফিল্মপাগলা তরজা শুরু করে। তুমি বলে দাও এটা কোন ব্র্যাকেটে বসবে ?

আমি জানিই না , আমি সচেতনভাবে খুব বেশি ভাবিও না এসব। আমার একটা গল্প বলার ছিল, আমি যা ফিল করেছি সেটাই কনসিভ করার চেষ্টা করেছি ফ্রেমে। সেই চেষ্টা কারো ভাল লেগেছে, কেউ ডেকে সাধুবাদ জানিয়েছে, কেউ বলেছে ভাল লাগে নি। যে নিজেদের মত করে সমঝোতা তৈরি করেছিল ছবিটার সাথে।

আচ্ছা এই যে ইমারজেন্স অফ স্কিলফুল ডিরেক্টর, এইটা কি বাংলা ছবির পরিচালকদের মধ্যে প্যারনোইয়া সৃষ্টি করল ? গতবছর আমার এক সহকর্মীকে গলফগ্রিনের একটি ক্যাফেতে বসে টালিগঞ্জের এক অভিনেতা জানিয়েছিলেন যে সৃজিত মুখোপাধ্যায় ছবিটা অর্ধেক দেখে হল থেকে বেরিয়ে যান, প্রকাশ্যে কিন্তু উনি ছবিটার প্রশংসাই করেছিলেন।

দেখো আমার সাথে এই ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক নেই। আমি ওই গতের ছবিই বানাই না। এই ইন্ডাস্ট্রির পরিচালকেরা একটা মাঠে ক্রিকেট খেলছে, সে মাঠে আমি যাই বড়জোর দর্শক হিসেবে। আমার খেলাটা অন্য মাঠে। প্যরানোইয়া সৃষ্টি করে আমার কোনও লাভ নেই। বাঙালি লড়িয়ে দিয়ে মজা পায়। তাই হয়তো বলে এদের খুব রেষারেষি। আদতে ব্যাপার তেমন না। ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই আমায় কংগ্র্যাচুলেট করেছিল। কারো যদি ছবিটা ভালো না লাগে সেটা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং ব্যক্তিগত বিষয়।

শেষ দু তিন বছরে বাংলায় যে ছবিগুলো হয়েছে, দেখেছ ? আমি বিশেষত সৃজিত মুখোপাধ্যায়,কৌশিক গাঙ্গুলির ছবির কথা জিজ্ঞেস করছি।

হ্যাঁ মোটামুটি দেখেছি। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যর বাকিটা ব্যক্তিগত দেখেছি। কৌশিক গাঙ্গুলির প্রায় সবকটা ছবিই দেখেছি। সৃজিতের শেষ ছবিটাও দেখেছি।

একসাথে এদের সকলের ছবি হলে চলাকালীন সময়ে টিকিট অফার করলে,তুমি কার ছবি দেখতে যাবে?

জানতাম এই ফাঁদটাই পাতা হবে । রেটিং করতে চাই না । আর ছবি দেখা তো শুধু টিকিট না সারকামস্ট্যান্সেসের ওপর ডিপেন্ড করে।

ধরা যাক সারকামস্ট্যান্সেস ছবি দেখার পথে অন্তরায় নয়, সেক্ষেত্রে ?

সেক্ষেত্রে হয়ত কৌশিক গাঙ্গুলির ছবি দেখতে যাব।

তোমার সমসাময়িক চৈতন্য তমহন ও সচেতনভাবে আঙ্গিকের চর্চা করেন। কোর্ট –ও তো এক অর্থে পাথ ব্রেকিং ছবি। তোমার কেমন লেগেছিল ? এই সময়ে ভারতে অন্য যারা কাজ করছে, তাদের কাজ সম্পর্কে তোমার কী মত ?

চৈতন্যর কোর্ট আমার অসম্ভব ভাল লেগেছে। হি ইজ ব্রিলিয়ান্ট অ্যাজ ওয়েল অ্যাজ ইন্সপায়ারিং। আমরা খুবই ভাল বন্ধু। বন্ধুত্ব হয় ভেনিসে গিয়ে। ছবিটা আমি তাঁর আগেই দেখেছিলাম। অবিনাশ অরুণের কিল্লাও খুব ভাল লেগেছে। গুরবিন্দরের চৌথি কুট , আনহে ঘোরে দে দান- এই ছবি দুটো যেমন আবার আমার খুব একটা ভালো লাগে নি।

কান’স সিনে ফাউন্ডেশানস এল’অ্যাতলেয়ার তো তোমার পরবর্তী ছবি মেমরিজ অ্যান্ড মাই মাদার কে বেছে নিয়েছে অনুদানের জন্যে। এটা বোধহয় প্রথম বাংলা এবং চতুর্থ ভারতীয় ছবি যারা এই অনুদান পাচ্ছে। এইটা সম্পর্কে একটু বল।

ছবির বাজেটের একটা অংশ ফ্রান্স থেকে পেয়েছি। নরওয়ে থেকেও কো-প্রোডিউসার পেয়েছি। জার্মানির থেকে কিছু ফান্ড পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু ওদের ফান্ডিং সিচুয়েশান এই মুহূর্তে খুব খারাপ।

ছবির কাজ শেষ হবে কবে নাগাদ ?

নিশ্চিতভাবে জানিনা কবে ছবির কাজ শেষ হবে। এই মুহূর্তে আমি কাজ বন্ধ রেখেছি। আমরা মোটামুটি চুয়ান্নটা থিয়েটার গ্রুপ যাত্রার দলের অডিশন নিয়েছি। চমকে গিয়েছি এক একজন অভিনেতার স্কিলে। কিন্তু প্রধান চরিত্রের জন্য যাকে খুঁজছি তাকে এখনও পাই নি। তাই আপাতত নতুন কাজে হাত দিয়েছি। কাস্টিংটা হলে মেমোরিজের প্রোডাকশনে যাব।

শুনেছি বেলা টার এর সিনেমাটোগ্রাফার, তুরিন হর্স’এর মত ছবি যার হাতে তোলা, সেই ফ্রেড কেলেম্যানের মেমোরিজের সিনেমাটোগ্রাফি করার কথা ছিল ?

হ্যাঁ ফ্রেড কেলেম্যান-ই শুট করবে। আমাদের এই ছবিটার শুটটাও ওর করার কথা ছিল। কিন্তু পা ভেঙে সে আপাতত বেডরেস্টে। ফলে সিদ্ধান্ত বদলাতে হয়েছে।

এই নতুন ছবিটার নাম কী ? এটা কী তোমার দিদিমাকে নিয়ে তৈরি কোনো ন্যারেটিভ ?

ছবিটার নাম জোনাকি। দিদিমাকে নিয়ে বললে ভুল হবে। দিদিমা এসেছেন এই ছবিতে এইটুকু বলতে পারি। বরং বলা ভালো এই ছবিটা ইজ আবাউট নাথিংনেস। বলার মত কোনও গল্প নেই, কোনও প্লট নেই। এটা আমার অনুভব। বলতে পারো পার্সোনাল ফিলিং ড্রিভেন ন্যারেটিভ। স্ক্রিপ্ট খুবই আনস্ট্রাকচারড, কাছের কয়েকজনকে বোঝাতে পেরেছি। র‍্যন্ডাম শ’খানেক সিন শুট করব ন্যরেটিভটাকে ফ্রেমে কনসিভ করতে। যারা দেখবেন তারাও শুধু একটা গল্প শুনবেন না, একটা অনুভবের শরিক হবেন। হাওয়ার মত, বলে বোঝানো যায় না, অনুভূত হয়। ললিতা চ্যাটার্জি অভিনয় করছেন মুখ্য ভূমিকায়। আমি জানিনা ছবিটা শেষ হওয়ার পর কেমন দাঁড়াবে।

তোমার ছবি যতটা দেখার ততটাই শোনার, অনেকেই বিশ্বাস করেন আসা যাওয়ার মাঝে চোখ বুঝেও একবার দেখা যায়। সাউন্ড কে তুমি কিভাবে ট্রিট করো ?

সাউন্ডের প্রতি আমার একটা মমতা আছে, আমি ওটা দৃশ্যের থেকে আলাদা করতে পারি না। আসা যাওয়ার মাঝে-তে সাউন্ড পুরোটাই স্ক্রিপটেড ছিল। আমার কাছে কাছে রাইটিং সাউন্ড ইজ রাইটিং অ্যা সিন। অনেকসময় এমনও হয় আমি আগে সাউন্ড ট্রিটমেন্টটা লিখি। আগের দৃশ্য লেখা হয়েছে, তার সাথে পরের দৃশ্যের সাউন্ডটা, তখনও জানি না ওই দৃশ্যে কী ভিস্যুয়াল যাবে। এটাতেই আমি অভ্যস্ত হয়ে পরেছি।

আসা যাওয়ার মাঝে আইটিউন, আমাজনে এসেছে আবার টরেন্টেও এসেছে। বড় প্রযোজকরা ডিস্ট্রিবিউটরা যাদের পাশে নেই, যারা প্যারালাল মিডিয়ামে ছবি নিয়ে লড়তে চাইছে তারা সারভাইভ করবে কিভাবে ?

আসা যাওয়ার মাঝের অনলাইন ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্ব নিয়েছে অভয় দেওয়াল। সমস্ত প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্যেই ও কিউরেট করেছে। ফিল্মবাজার থেকে ও তিনটে ছবি নিজের ব্যানারে অনলাইন রিলিজের জন্যে কিনে নেয়, তার মধ্যে এইটা একটা। আইটিউন আমাজন গুগল প্লে তে এসেছে, শিগগিরি নেটফ্লিক্সেও আসবে। এবার দেখো এটা তো একসময় টরেন্টে আসবেই। এটা একটা অদ্ভুত পরিস্থিতি। মার্কেট ইজ হ্যাম্পারড বাই দিস, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আবার এটাও তো ঠিক শতকরা আশি শতাংশ ফিল্ম দর্শক টরেন্ট ডাউনলোড করে। বৃহত্তর ভিসিবিলিটি তৈরি করতে এর একটা ভূমিকা আছে। ফলে এটা আনঅ্যাভয়েডেবেল। ছবির টাকা তোলার জন্যে পরিচালক প্রযোজককে শুধু অনলাইন মার্কেটের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। ফিনান্সিয়াল মডেল শুড বি ক্লিয়ারড আপ বাই দ্যা টাইম ইউ সেল ইওর রাইট। সেই অবধি ছবিটাকে প্রোটেক্ট করতে হবে। আর ডিজিটাল মার্কেটের ক্ষেত্রে একটা তৃতীয় পন্থা ভাবতে হবে।

তোমায় ধন্যবাদ, আগাম শুভেচ্ছা জোনাকির জন্যে।

Tags
Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Bitnami