চলচ্চিত্রসাক্ষাৎকার

“আমার এমন একটা অ্যানিমেশন বানানোর ইচ্ছে আছে, যেটা ভারতবর্ষ থেকেই সম্ভব”

কথোপকথনে সৌকর্য ঘোষাল

সৌকর্য ঘোষাল শুরু করেছেন তার নতুন ছবি ‘রক্ত রহস্য’-র কাজ। তার সাম্প্রতিক ছবি ‘রেনবো জেলি’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিস্তর।  আপাতত তিনি ব্যাস্ত তার নতুন ছবি ‘রক্ত রহস্য’ নিয়ে। তার ফাঁকেই লীলা মজুমদারের কথনবিশ্ব থেকে ‘পপুলার’ শিল্প ইত্যাদি নানান বিষয়ে কথাবার্তা বললেন আগামীকাল-এর সঙ্গে। 
 

আগামীকাল:-ছোটদের ছবি বলে একটা ধারণা আছে আলাদা করে। ‘রেনবো জেলি’ বানানোর সময় কি সেই ধারণাটা মাথায় রেখে বানিয়েছ? না কি একটা স্বতন্ত্র ছবি হিসেবে বানিয়েছ?

সৌকর্য ঘোষাল:- আমি ছোটবেলার ছবি বানাতে চেয়েছি, ছেলেবেলার ছবি বানাতে চেয়েছি, এমন একটা ছবি যা আমাদের ছেলেবেলার কাছে ফিরিয়ে দেবে। আমাদের প্রত্যেকের মধ্যেই, আমার মনে হয়, একটা অ্যাব-অরিজিনাল চাইল্ড সেল্ফ থাকে, যার কাছে আমরা ফিরে ফিরে যাই, যখন আমরা একা থাকি, আমাদের মন যখন খারাপ থাকে। ছবি তো একটা স্বয়ংসম্পূর্ণ মাধ্যম, আমার মনে হয়েছিল, এমন একটা ছবি বানানো যায়, যা চোখ বন্ধ করলে আমাদের, মানে আমরা যারা পরিণত তাদের ওই চাইল্ড সেল্ফটার কাছে ফিরে যাওয়ার একটা স্পেস তৈরি করবে। সেই ছবিতে একটা চরিত্র থাকবে, একটা প্রোটাগনিস্ট থাকবে, একটা গল্প থাকবে। মানে ঘোঁতন যে স্পেশাল চাইল্ড, ঘোঁতন যে ডিফারেন্টলি এবলড্ বা ঘোঁতন যে সুপারহিরো-এই সবটাই আমাদের প্রত্যেকের মধ্যে আছে। ‘অপমানিত বালক’-এর মত। সেটা ছেলেমেয়ে নির্বিশেষে আমাদের সকলের মধ্যে আছে। ঘোঁতন হল আমাদের প্রত্যেকের তাবৎ সেই ছোটবেলাটা, যেটা আমরা বুকে নিয়ে বেড়াই। আমার অঙ্ক টিচার, আমার রাগী বাবা, আমার অফিসের বস, আমার পাড়ার ফচকে ছেলেরা, রাস্তার ট্রাফিক গার্ড যারা যারা যখন আমাদের চোখ রাঙায় যে কোনো বয়সে, তখন আমরা যেরকম ভালনারেবল, সেই ভালনারেবলিটির প্রতিনিধি ঘোঁতন।
আগামীকাল:- ছোটবেলা মানেই তো পেলব নয়। তার মধ্যে কষ্ট আছে, যন্ত্রণা আছে। ইরানের ছবির শিশুদের দেখলে তা বোঝা যায়, ঘোঁতনেরও জীবনে অত্যাচার, অবহেলা আছে। ‘রেনবো জেলি’-তে কি সেই ডার্কনেস রাখার চেষ্টা ছিল?
সৌকর্য ঘোষাল:- আমার আসলে মূলত লেখার শিক্ষাগুরু হচ্ছেন লীলা মজুমদার। লীলা মজুমদার আমাকে শিখিয়েছেন, যেকোনো খারাপ, কঠিন, কষ্টের জিনিস যখন সৃষ্টি করবে তখন কষ্টের গল্পটাও যেন পড়ে কষ্ট না হয়; কষ্টের কথাগুলো থাকবে, কিন্তু তার মধ্যে এমন একটা আলো থাকবে, পড়তে পড়তে যেন মনে হয় কষ্টটা বাস্তব যতটা, কষ্টের পেছনে আলোটাও ততটা, তা না হলে কোনো সৃষ্টিরই কোনো মানে থাকেনা। আমার মনে হয় হোপ ইজ দ্য প্রাইমারি অ্যান্ড দ্য অনলি ফ্যাক্টর অফ সারভাইভাল অফ দ্য একজিসটেন্স ইন দ্য ইউনিভার্স। হোপ ছিল বলেই অ্যাবসোলিউটলি ডার্ক ম্যাটার থেকে বিগ ব্যাং-এর পরে ইউনিভার্স তৈরি হয়। আবার যখন বিগ ক্রাঞ্চ হবে, আমরা আশা রাখি আরও একটা বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে ইউনিভার্স তৈরি হবে। যেকোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রে হোপ ই একমাত্র কনস্ট্যান্ট। সেইজন্যই যেকোনো ক্ষেত্রে যেকোনো অবস্থায় যতই ডার্ক জিনিস ঘটুক না কেন, হোপ এমন একটা আলো, যে আলোতে সেই ডার্কনেসটাও ভালো লাগে, কারণ বুঝতে পারি এর পরেই একটা আলো আছে। কাজেই আমরা একটা আলোর কথা ভাবি, কারণ ভোর হওয়ার আগেই রাত সবথেকে বেশি অন্ধকার হয়।
আগামীকাল:- ছবি দেখতে দেখতে বারবার মনে পড়ে লীলা মজুমদার বা সত্যজিৎ রায়ের গল্পের কাঠামোর কথা। এই রেফারেন্স কি সচেতনভাবে রাখা?
সৌকর্য ঘোষাল:- দেখো, সচেতনভাবে তো বটেই, কারণ ঘোঁতন আদতে লীলা মজুমদারের একটা বিখ্যাত সেলিব্রেটেড চরিত্র, পদিপিসি লীলা মজুমদারের একটা বিখ্যাত সেলিব্রেটেড চরিত্র, গন্ডারিয়া সত্যজিতের একটা বিখ্যাত সেলিব্রেটেড চরিত্র। আমার মনে হয় সমগ্র রায় পরিবারের মধ্যে লীলা মজুমদারই সবচাইতে বড়ো মহীরুহ। কিন্তু সুকুমার বলো, সত্যজিৎ বলো, লীলা মজুমদার বলো এদের মধ্যে একটা জিনিস কমন ছিলো, সেটা হল এমন একটা দুনিয়া, যে দুনিয়াটা পেরিস্তানের মতন। এই পেরিস্তানের মতন দুনিয়াটা একমাত্র ‘টংলিং’-এর জন্য নয়। এই পেরিস্তানের মতন দুনিয়াটা ‘বাতাসবাড়ি’-তে আছে, এই পেরিস্তানের মতন দুনিয়াটা ক্যাপ্টেন স্পার্কের কাছেও আছে, এই পেরিস্তানের মতন দুনিয়াটা ‘হযবরল’-তেও আছে, এই পেরিস্তানের মতন দুনিয়াটা ‘লক্ষণের শক্তিশেল’-এও আছে। এই দুনিয়াটা আমাদের প্রত্যেকের আছে। লীলা মজুমদার, বা সমগ্র রায় পরিবারের লেখালিখিটা আমার বেড়ে ওঠার, লেখা চর্চার সবথেকে বড়ো স্কুলিং। তারপর ধরো শীর্ষেন্দু এল, শীর্ষেন্দু যখন মাথায় ঢুকল, শীর্ষেন্দুর লেখার মধ্যেও একটা পেরিস্তান আছে। রাসকিন বন্ডের লেখার মধ্যেও একটা পেরিস্তান আছে। আমার মনে হয় এরা যারা শিশুদের নিয়ে কাজ করেন, এদের সকলেরই একটা পেরিস্তান আছে। একটা চিঠি পড়েছিলাম, যে রবীন্দ্রনাথ না কি একবার প্ল্যানচেট করেছিলেন সুকুমার রায়কে, সুকুমার রায়কে প্রশ্ন করা হয় তুমি কোথায় আছো? সুকুমার বলেন, আমি যেখানে আছি সেখানে শিশুদের জন্য একটা অন্য জগৎ আছে। দ্যাট ইজ ভেরি ইমপর্ট্যান্ট। এই প্ল্যানচেট ইত্যাদি যদি আমাদের মানসের বিভিন্ন স্তরের বিভিন্ন রিপার্কেশন, বিভিন্ন রিফ্লেকশন হয়, তাহলে আমাদের মানসের কোনো এক স্তরে হয়তো সেই অ্যাব-অরিজিনাল চাইল্ড সেল্ফটা আছে, যখন প্রথম জন্মের পরে আমার সেন্সিটিভিটিগুলো আস্তে আস্তে বেড়ে ওঠে, সুপ্রিম বয়-দের মতন। তো লীলা মজুমদারকে নেতৃত্বে রেখে এই এন্টায়ার লেখককুল আমাকে যেভাবে তৈরি করেছে ভেতরে ভেতরে, আমি যখন জিওগ্রাফি বইয়ের তলায় লুকিয়ে ফেলুদা পড়েছি, ফিজিক্স বইয়ের তলায় লুকিয়ে লীলা মজুমদার পড়েছি… এইটা আমার একটা দুনিয়া, যেখানে আমি একাই রয়েছি, বিভিন্ন চরিত্ররা নেমে এসেছে পরীর মতন‌। কাজেই ওদের একটা বিরাট ভূমিকা তো আছেই।
আগামীকাল:- তোমার প্রথম ছবি ‘পেন্ডুলাম’ সেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছয়নি, নানান ব্যবস্থার ত্রুটির জন্য। অথচ যারা দেখেছিল তাদের অপূর্ব লেগেছিল। এইরকমটা হল কেন?
সৌকর্য ঘোষাল:- ‘পেন্ডুলাম’-এর ক্ষেত্রে আমি বলতে পারি, একটা ছবি মানুষের কাছে পৌঁছনোর জন্য ছবির গুণাবলীর পাশাপাশি একটা অন্য মেকানিজমও কাজ করে, একটা সায়েন্স কাজ করে। যেটা একটা সঠিক সায়েন্স যেটা সঠিক প্রোডিউসার-রা জানেন এবং তারা সেটা করতে পারেন, এবং সেটা একটা ছবির জন্য ন্যায্য। সবচেয়ে বড় কথা ছবিটা কোন সময়ে রিলিজ করব, আমি যদি ভাবি একটা ছবি যদি বানিয়ে কোনোমতে রিলিজ করে দেব, তাহলে সে ছবি কখনোই চলবে না। একটা সঠিক রিলিজ টাইম ভাবতে হয়, ছবিকে লালন করতে হয়, শেষ অবধি প্রোমোশনে লড়তে হয়, দর্শকের কাছে পৌঁছতে হয়, রাতের পর রাত জাগতে হয়-এটার জন্য একটা বড়ো জায়গা থাকে, ‘পেন্ডুলাম’-এর ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। সেটা আমাদের সবার প্রথম ছবি ছিল, প্রোডিউসার, ডিরেক্টর, ক্যামেরাম্যান, মিউজিক ডিরেক্টর, এডিটর-যত হেড হতে পারে একটা ছবির, সবার প্রথম ছবি ছিল, ‘পেন্ডুলাম’-কে একটা ডেবিউ ফিল্ম বলা যায় সবদিক দিয়ে। তা ছাড়াও আরেকটা জিনিস ‘পেন্ডুলাম’-এর ক্ষেত্রে আমার মনে হয় এখন, ‘পেন্ডুলাম’-এর পরে আমি ‘লোডশেডিং’ বানিয়েছি, তারপর আমি ‘রেনবো জেলি’ বানিয়েছি, এখন নতুন ছবি বানাচ্ছি। এখন বুঝতে পারি, ছবির ক্ষেত্রে ‘পেন্ডুলাম’ হয়তো অনেক বেশি মাথা দিয়ে ছবিটাকে চালুনির মতন চেলে নিয়ে মনের ভেতর ভরার ছবি। সেটা খুব ইমপর্ট্যান্ট, কিন্তু আসলে ছবি সেরকম হয়না, ছবির মাহাত্ম্য, ছবির দীর্ঘজীবন লাভ হয় তখনই, বা একটা ছবি চিরন্তন হয় তখনই, যখন সেটা হৃদয়ে গিয়ে স্পর্শ করে, হৃদয় থেকে উর্ধ্বগামী হয়ে তারপর মাথায় গিয়ে তার ব্যাখ্যা পায়। ছবিকে, আমার মনে হয়, যদি মাথা দিয়ে চালুনি দিয়ে চেলে নিয়ে হৃদয়ে ঢোকাতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেই ছবির সম্পূর্ণতায় কোথাও খামতি আছে, যা ‘পেন্ডুলাম’-এর মধ্যে ছিল বলে এখন আমি বোধ করি। ছবি সরাসরি মনে যায়। যা আমাদের তাবৎ কাল্ট ছবি, ‘পথের পাঁচালি’ , ‘সুবর্ণরেখা’ , ‘সোলারিস’ , ‘সামার উইথ মনিকা’ , ‘ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিজ’ , ‘ট্যাক্সি ড্রাইভার’ , ‘রশোমন’-এইসব ছবি প্রাথমিকভাবে তোমার ভেতরের ইনটিউটিভ মনটাকে একটা অন্ধকার ঘরের মধ্যে নিয়ে আসে, একটা লার্জার দ্যান লাইফ বিষয়ের মুখোমুখি করে,  ডায়মেনশনাল বিয়ন্ডটাকে গিয়ে ছোঁয়, তাতে তুমি শিহরিত হও, পরমুহূর্তেই শিহরণটা উর্ধ্বগামী হয়ে মাথায় গিয়ে ছোঁয়, মাথা জাজ করে, তুমি বুঝতে পারো সিনেমা দেখছ, তুমি শিহরণটা সম্পর্কে সচেতন হও। আমার মনে হয় সিনেমার গতি এরকমই হওয়া উচিত। কিন্তু অনেক বিখ্যাত ছবির মতই ‘পেন্ডুলাম’-ও ছিল মাথা দিয়ে জাজ করে মনে নেওয়ার ছবি। সুতরাং যারা মাথা দিয়ে ছবিটা দেখতে ভালবাসেন না, যার সংখ্যাই বেশি, তাদের ক্ষেত্রে ছবিটা ব্যর্থ, কিন্তু যারা ভালবাসেন তাদের ছবিটা অপূর্ব লেগেছে। কিন্তু আমি অ্যাজ অ্যান অডিয়েন্স, অ্যাজ আ মেকার আগে মানুষকে স্পর্শ করে বুদ্ধির স্যাংশনের অপেক্ষা করি, কিন্তু প্রাথমিকভাবে মানুষকে মাথায় রাখতে হবে।

আগামীকাল:- তুমি কি তোমার সেসময়ের সিনেমাভাবনা থেকে সরে এসেছ?
সৌকর্য ঘোষাল:- মূল কূটটা কিন্তু এক রয়ে গেছে, কিন্তু তার পাশের বৃত্তটা পাল্টেছে। নিজের জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে একটা বিষয় আমি বুঝেছি। আমার বিশ্বাসটা একই রয়েছে হয়তো, কিন্তু আমার বিশ্বাসটা আমার শক্তি হতে পারে,  আমার বিশ্বাসটা আমার কনফিডেন্স হতে পারে, আমার বিশ্বাসটা আমার অহং হতে পারে না। কারণ আর্টিস্টের বিশ্বাস যখন তার অহং হয়ে যায়, তখন সেই আর্টিস্ট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, আমার বিশ্বাস যদি আমার কনফিডেন্স হয়, সৎসাহস হয়, তাহলে সেখানে অনেক মানুষকে জুড়ে নেওয়ার জায়গা থাকে। সিনেমার, আমার মনে হয়, প্রাথমিক দায়িত্ব ম্যাক্সিমাম মানুষের কাছে পৌঁছোনো, ম্যাক্সিমাম মানুষকে জোড়া। পপুলার বিষয়টার প্রতি আমার চরম শ্রদ্ধা আছে। যারা মাথা দিয়ে চালুনি করে যেকোনো আর্ট ফর্ম বোঝে, তাদের কাছে পপুলার ডিগ্রেডেড। কিন্তু পৃথিবীর তাবৎ চিরন্তন সত্যই পপুলার। সূর্য একটা পপুলার সত্য, চাঁদ একটা পপুলার সত্য, দুঃখ আনন্দ এসবই পপুলার সত্য। এদের কমব্যাট করার মতন কোনো প্যারালাল অলটারনেটিভ জন্মায়না। কারণ সত্য এমন একটা জায়গা যা নিয়ে কোনো তর্ক চলেনা। সূর্য পূর্বদিকে ওঠে বা পৃথিবীর চারদিকে ঘোরে এনিয়ে তর্ক হতে পারেনা। সত্য সেজায়গা থেকে পপুলার। অধিকাংশ মানুষের কাছে পৌঁছোনোটাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, কারণ সিনেমা মাস কমিউনিকেশনের অন্যতম মাধ্যম। অধিকাংশ মানুষের নিশ্বাসের অধিকার, অধিকাংশ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার আমরা চাই যেভাবে। রাষ্ট্রকে আমরা যখন রিপ্রেজেন্ট করি, শাসককে আমরা যখন রিপ্রেজেন্ট করি, তখন আমরা পপুলিস্ট থাকি; রাষ্ট্রদ্রোহিতা বলে যা চিহ্নিত তা আনপপুলার বলে, একপ্রকার অহং থেকে তা আমরা গ্রহণ করি না। অথচ শিল্পের ক্ষেত্রেই আমরা দেখি, সংখ্যালঘুত্বের মধ্যে একটা অহং আছে। এটা একধরনের ইন্টেলেকচুয়াল ফান্ডামেন্টালিজম বলে আমার মনে হয়। কাজেই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট কাজকে অধিকাংশ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন আছে।
আগামীকাল:- তোমার পরের ছবি ‘রক্ত রহস্য’ কে তুমি বলছ ইমোশনাল থ্রিলার। ইমোশনাল থ্রিলার বিষয়টা কী?
সৌকর্য ঘোষাল:- ইমোশনাল থ্রিলার বিষয়টা হল…আসলে গল্পটা হচ্ছে একজন খুব সৎ এবং আবেগপ্রবণ মানুষ, যে আবেগকে খুব ন্যায়সঙ্গতভাবে ভর করে চলে, যে আবেগকে খুব বিশ্বাস করে, বিশ্বাস করে আবেগের দাম আছে, আবেগের দাম পাওয়া উচিৎ, তাকে নিয়ে। এবার এই আবেগকে ব্যবহার করে একটা বড়ো রকমের ঘটনা ঘটে। যখন সবাই মনে করতে থাকে আবেগটাই তার দুর্বলতা, তখন সে আবেগকে নির্ভর করেই সেই রহস্যর উন্মোচন করে, এবং সে শেষমেষ জেতে, স্বমহিমায় জয়ী হয়। থ্রিলার সাধারণত খুব চটকদার হয়, কিন্তু আবেগটাও খুব জরুরি বলে মনে হয় আমার, আমরা টুইস্ট খুঁজি থ্রিলারে, কিন্তু আবেগও সেখানে জরুরি। এটা একান্তই আমার কয়েনেজ, আরও বহু ছবিকেই আমি  ইমোশনাল থ্রিলার বলি। তুমি যদি ‘ইনসেপশন’ কে ধরো, ‘ইনসেপশন’ কে থ্রিলার জঁরই বলেন পরিচালক, আমার মনে হয় ওটা একটা ইমোশনাল থ্রিলার। বারবার প্রোটাগনিস্টের স্ত্রী-র ফিরে আসা, আবার সাবলাইম হয়ে যাওয়া, এটাই মূল কূটটা। ওটাই কিন্তু আসলে তাড়া করে। এটাকে ঘিরেই জার্নিটা চলে।
আগামীকাল:- সিনেমা ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে কাজ করতে ইচ্ছে করে?
সৌকর্য ঘোষাল:- আমার নিজের কাজের জন্য সিনেমাকেই চূড়ান্ত বলে মনে হয়। আমি ছবি আঁকা দিয়ে শুরু করেছিলাম, মূলত লেখা দিয়ে শুরু করেছিলাম, তারপর ছবি আঁকা…তারপর কমিকসের কাজ করেও খুব আনন্দ পেয়েছি, এখন সিনেমা মাধ্যমটাকেই অবলম্বন করেছি। আমার অ্যানিমেশন বানানোর ইচ্ছে আছে, জানি না ওই বিরাট সেট আপ পাব কি না। কিন্তু আমার এমন একটা অ্যানিমেশন বানানোর ইচ্ছে আছে, যেটা ভারতবর্ষ থেকেই সম্ভব। অ্যানিমেশন বা গ্রাফিক্স বা ওইজাতীয় কিছু ভাবলেই আমরা ভেবে নি বিদেশি, কিন্তু ভারতবর্ষের যে প্রাচীন, অমোঘ দর্শন আছে, তার যে আভিজাত্য…তুমি যদি ‘প্রিন্টেড রেনবো’ দেখো, গীতাঞ্জলি রাও-এর, ওই যে স্বপ্নের চলন, মৃত্যু ও আত্মার দর্শন, তা ভারতবর্ষের মাটি ছাড়া সম্ভব নয়, যতই তুমি টেকনোলজিকালি অ্যাডভান্সড হও‌। আমার ওইরকম কিছু করার ইচ্ছে আছে।
Show More

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Close
Bitnami